নয়াদিল্লি: প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে আদালতের কাজে। সৌজন্যে করোনা ভাইরাস। মারণ মহামারির জেরে যাতায়াত বন্ধ। লকডাউনের জন্য বাড়ি গিয়ে সমন ধরানো বা নোটিশ ধরানো সম্ভব নয়। এছাড়াও রয়েছে সংক্রমণের ভয়। ফলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে এবার আদালতের কাজ হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়েছে লকডাউনের মধ্যেও মামলার কাজে গতি আনতে এবার ব্যবহার করা হবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেল বা ফ্যাক্সের মত মাধ্যম। এগুলি দ্বারা পাঠানো হবে নোটিশ বা সমন। ব্যবহার করা হতে পারে টেলিগ্রামও। সুপ্রিম কোর্ট জানাচ্ছে ইনস্টান্ট মেসেঞ্জার সার্ভিস যেমন হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে দুটি নীল টিকের অর্থ প্রাপক সেই নোটিশ দেখেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হোয়াটসঅ্যাপে গোটা নথি পাঠানোর পরেও মেল করতে হবে, যাতে নথি থাকে। এর আগে স্বতপ্রণোদিত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল মামলাকারীকে নোটিশ পাঠাতে বা সমন পাঠাতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আইনজীবী বা পক্ষ-বিপক্ষকে।

লকডাউন ও সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এবার তাই ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি, বিচারপতি এ এস বোপান্না প্রসাদ।

এই মর্মে আবেদন করেছিলেন দেশের অ্যাটর্ণি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল। সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলে এই লকডাউনে বারবার পোস্ট অফিসে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে থেমে থাকছে মামলা। গতি কমে আসছে বিচারব্যবস্থার। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আদালতে ও ট্রাইবুনালে মামলার আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। সেই আবেদন বিচার করেই শীর্ষ আদালত প্রযুক্তি নির্ভর গতি চাইছে গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে। সুপ্রিম কোর্ট জানাচ্ছে এমন বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে, যার দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তাই এই সিদ্ধান্ত।

করোনার জেরে এর আগেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কালো কোট না পরা, ভার্চুয়াল শুনানি প্রভৃতি সিদ্ধান্তে নজিরবিহীন পরিবর্তন এসেছে দেশের বিচার ব্যবস্থায়।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব