কত মত যে পালিয়ে গেল ভয়ে
কত মুখের মুখোশ পড়লো কাটা!

অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এহেন দলবদল এবং মত বদলে চিন্তিত টলি মহল থেকে অভিনেতা অভিনেত্রীদের দর্শকবৃন্দ। ভোল পাল্টে ‘ফুল’ চেঞ্জ। বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক পরিস্থিতিতে এই চিত্র বারবার উঠে আসছে।

‘ছিল বেড়াল হয়ে গেল রুমাল’ এর মতন ‘ছিল বামপন্থী হয়ে গেল তৃণমূল’ বা ‘ছিল তৃণমূল হয়ে গেল বিজেপি’ এ ঘটনা এখন বাংলা সিরিয়াল এর থেকেও বেশি টিআরপি টানছে।

আর এই ব্যাপারে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তার দীর্ঘদিনের কলিগ এবং সহঅভিনেত্রী সায়নী ঘোষ তৃণমূলে যোগ দিয়েছে সদ্য। বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহাগঞ্জের সভায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন টলিউডের একঝাঁক তারকা। যার মধ্যে সায়নী ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক, জুন মালিয়া, রাজ চক্রবর্তী, সুদেষ্ণা রায়রা ছিলেন। অথচ তৃণমূলে যোগ দেবার পূর্বে সায়নী ঘোষ বহুবার প্রকাশ্যেই বামপন্থী মনোভাব পোষণ করেছেন। অন্যদিকে শ্রীলেখা মিত্র প্রথম থেকেই বামপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী, তা সেই দল ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক।চেয়ারে যে রাজনৈতিক দলের রঙ লাগুক না কেন, তিনি কোনদিনই সবুজ বা গেরুয়া শিবিরের ছত্রছায়ায় আসেননি।

দলবদল নিয়ে তিনি সায়নী ঘোষকে প্রকাশ্যেই বিঁধলেন, এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখলেন ‘তোর থেকে এটা আশা করিনি সায়নী, তুইও বিক্রি হয়ে গেলি, খেলতে নেমে গেলি! খুবই দুঃখজনক’। তিনি এও লেখেন,’আমি আমার লুক পালটেছি কিন্তু মতাদর্শ বদল করিনি।’

হতাশ হয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেছেন, কাউকে চিনতে পারছেন না তিনি। অথবা,তিনি নিজেই আজকের দিনে অচল। তবে শুধুমাত্র অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র নয়, সমাজ মাধ্যমের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে সাধারণ মানুষও কনফিউজড কাকে বিশ্বাস করবেন কাকে বিশ্বাস করবে না তা নিয়ে।

‘আজ যার হাতে চুষিকাঠি কাল সে হাতে ধরবে লাঠি’র মতনই ‘আজ যার মুখে লাল এর বাণী, কাল সে বলে দিদির বাণী’ হয়ে যাওয়ার মতন অবস্থায় কোনটা সত্যি কোনটা মিথ্যে তা বোঝা সত্যিই দুষ্কর। তাই এবারের ভোটে মুখোশের রমরমা।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.