শংকর দাস, বালুরঘাট: দিনের বেলা বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করার পাশাপাশি মায়ের সাথে টিভি সিরিয়াল দেখা। তার পর ঘুম৷ তাহলে পড়া? সেজন্য আশ্রয় নিঝুম রাত৷

এই ভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে এবারের মাধ্যমিকে মেধা তালিকার অষ্টম স্থানাধিকারী গঙ্গারামপুরের তাঁতি পরিবারের ছেলে সায়ন্তন বসাক। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ টিভিতে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের ঘোষনায় সায়ন্তন বসাকের নাম উচ্চারিত হওয়ার পর থেকেই খুশির পরিবেশ গঙ্গারামপুরের দত্তপাড়াতে।

আত্মীয় স্বজন পাড়াপ্রতিবেশি থেকে শুরু করে শিক্ষক ও সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা সকলেই অভিনন্দন জানাতে বাড়িতে ভিড় করতে শুরু করেন।এবারের মাধ্যমিকে সায়ন্তন পেয়েছে ৬৮৩ নম্বর। রাজ্যের মেধাতালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে সে৷ জীববিদ্যা ও অংক তাঁর প্রিয় বিষয়।

বাবা মায়ের ইচ্ছে ভবিষ্যতে নেট পাস করানো হলেও সায়ন্তনের ইচ্ছে সে ডাক্তার হবে। বাবা বৃন্দাবন দাস পেশায় তাঁতি। বছর খানেক আগেও বাড়িতে তিনি নিজেই তাঁতের শাড়ী বুনতেন। বর্তমানে তাঁত বন্ধ করে বাইরে থেকে শাড়ি কিনে এনে ব্যবসা করেন। গঙ্গারামপুর হাইস্কুলের ছাত্র সায়ন্তন টেস্টে পেয়েছিল ৬৭৮ নম্বর। ছেলে যে ফাইনালে ভাল ফল করবে সে ব্যাপারে আগে থেকেই আশাবাদী ছিলেন তাঁর বাবা মা দুইজনেই।

আশা রেখেছে সায়ন্তন৷ সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় এই কৃতি জানায়, সে দিনের বেলায় পড়াশুনা করত না। বাবা বাইরে থাকাকালীন সে ব্যবসার দেখাশুনা করে থাকে। বিকেলে মায়ের সাথে বসে নিয়মিত টিভি সিরিয়ালও দেখে। রাতে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন সে পড়াশুনা শুরু করে। প্রতিদিনই গভীর রাত অবধি পড়ত বলে সে জানিয়েছে। তাঁর এই সাফল্যের জন্য পরিবার সহপাঠী ও শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিবেশিদেরও অবদান রয়েছে বলেও সায়ন্তন জানিয়েছে।

বাবা বৃন্দাবন বসাক জানিয়েছেন যে প্রত্যেক দিনই শাড়ি কিনতে বাড়ির বাইরে তাঁকে যেতে হয়। এই সময়’টাতে ছেলে সায়ন্তনই বাড়িতে শাড়ির কেনাবেচার কাজ সামলায়। ছেলের বড় হয়ে ডাক্তার হওয়ার কথা বললেও, তাঁদের ইচ্ছে সে নেট পরীক্ষায় বসবে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.