স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: রাহুল সিনহা বিজেপির ‘বাংলার মুখ’ বলে তাঁর ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়।এবার একই সুর শোনা গেল রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর গলাতেও। দলে রাহুল সিনহার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বলেই দাবি করলেন তিনি।

রবিবার মালবাজার মহকুমার লাটাগুড়িতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে রাহুল সিনহা প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসু বলেন, “রাহুল সিনহা বিজেপিতে দলের মুখ। ছোটবেলা থেকেই রাহুলদাকে দেখে এসেছি। রাহুলদা নেতা ছিলেন। আছেন এবং থাকবেন। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের মতো রাহুলদাও দলের মুখ।”

তিনি আরও বলেন, “বিজেপিতে তাজা রক্তের প্রয়োজন আছে। আগে অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে দলে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কখনও মুরলী মনোহর যোশী, নীতীন গডকড়িরা নেতৃত্বে এসেছেন। এখন জেপি নাড্ডা আছেন। রাহুলদার পদ গেল কি গেল না তাতে কিছু আসে যায় না। তাতে রাহুলদার গুরুত্বের অভাব হয়নি। একটা দল হিসেবে সকলে কাজ করছি। বাংলার মুখ রাহুলদাই।”

রবিবার সকালে বাঁকুড়া হয়ে পুরুলিয়ায় দলীয় কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে কাঁকসার বাঁশকোপায় একটি হোটেলের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়ান মুকুল রায়। সেখানে রাহুল সিনহার ক্ষোভ প্রসঙ্গে মুকুল রায় বলেছেন, “রাহুল সিনহা বিজেপির বাংলার মুখ। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করছেন। দু-একটা কথা যদি বলে থাকেন তা থেকে কোনও ধারণা করা উচিত হবে না।” এছাড়া জয়ের বিষয়েও বেশ আশাবাদী মুকুল রায়।

এদিন তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে বাংলা ছাড়া অনান্য যে সমস্ত রাজ্যে বিধানসভার ভোট রয়েছে সেখানে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভাল ফল করবে বিজেপি।”

উল্লেখ্য, রাহুল সিনহা কেন্দ্রীয় সম্পাদক ছিলেন। এবার তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দলে নবীন অনুপম হাজরা। সেখানেই ক্ষোভ প্রাক্তনের। রাহুল সিনহা শনিবার বলেন, “চল্লিশ বছর বিজেপির সেবা করেছি। দলের একজন সৈনিক হিসাবে কাজ করে এসেছি। জন্মলগ্ন থেকে বিজেপির সেবা করার পুরস্কার এটাই।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আসছে সেজন্য আমাকে সরতে হবে। এর থেকে বড় দুর্ভাগ্য হতে পারে না। পার্টি যে পুরস্কার দিল সেই পুরস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে কিচ্ছু আমি বলতে চাই না। আমি যা বলার ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বলব এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঠিক করব।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।