স্টাফ রিপোর্টার,মালদহ: দলে থাকতে গেলে ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হবে। ঠাণ্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করে না বিজেপি। তাই তৃণমূল থেকে এসে আবার তৃণমূলেই ফিরে যেতে হয়েছে হুমায়ুন কবীর, বিপ্লব মিত্রদের মতো নেতাদের।

শুক্রবার মালদহে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে এসে শাসকদলের ধান্দাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে এমনই কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু।

এদিন সকালে মালদহ শহরের পুরাটুলি বাঁধরোড এলাকার বিজেপির জেলা কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন সায়ন্তন বসু। সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন বিজেপির মালদহ জেলা সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল প্রমুখ।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি’র রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যারা এসেছিলেন, সেই সব নেতাদের ঝান্ডা নিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হবে। এটাই আমাদের দলের নিয়ম। ঠান্ডা ঘরে বসে রাজনীতি করা যায় না। তাই যাদের পোষায়নি, তারা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এর মধ্যে যেমন বালুরঘাটের বিপ্লব মিত্র, মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির রয়েছেন।”

এই প্রসঙ্গে সায়ন্তন বসুকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে মুকুল রায় নয় কেন ? উনিও তো বিজেপিতে যোগদানের পর রাস্তায় আন্দোলনে নামেননি। সান্তনুবাবু বলেন, “মুকুল রায় যেভাবে লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গের মানচিত্র বদলে দিয়েছেন, তাতে আর নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। উনি বিজেপি দলের হয়ে যেভাবে কাজ করে চলেছেন, সে নিয়ে আর কোনও প্রশ্নই উঠে না।”

এদিকে করোনা সংক্রমনের মধ্যে এবং লকডাউন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের বনদফতর হঠাৎ করে কয়েক হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়েও রীতিমতো কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু। তিনি বলেন, “দালালদের এক টাকাও দেবেন না। তৃণমূল ভোটের আগে টাকা তুলার এটা নতুন পথ তৈরী করেছে।

চাকরি তো একটাও হবে না, শুধু শুধু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে তৃণমূলের দালালেরা টাকা তোলার ধান্দার একটা নতুন পথ তৈরী করেছে। বিগত দিনে টেট পরীক্ষা সহ অন্যান্য সরকারি পরীক্ষার নিয়োগ এখনও কার্যকর হয়নি। কাজেই এটা যে মানুষকে ঠকানো হচ্ছে তা পরিষ্কার।”

ফাইল ছবি

রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি বিজেপিতে কি আসছেন, এটা রটনা না ঘটনা। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিজেপির রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন , “শুভেন্দুবাবুর যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে ২০২১ সালের পর তৃনমূল দলটাই থাকবে না। মানুষ তৃনমূলের ভাওতাবাজি বুঝে গেছে। তাই নতুন করে আর কিছু বলার নেই ।”

এদিন মালদহ জেলার বিজেপি দলের প্রথম সারির নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন সাংসদ এবং রাজ্য কমিটির নেতারা। মালদহেয দলীয় সংগঠন কিভাবে চাঙ্গা করা যায় , সে নিয়েও একপ্রস্থর আলোচনা হয় । এরপর মালদহে বেশ কয়েকটি এলাকায় দলীয় কাজকর্মে তদারকি করতে বালুরঘাট এবং উত্তর মালদহের সাংসদদের নিয়ে যান বিজেপি রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও