সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : পেশা তবলার শিক্ষক। নেশা শহরের মানুষকে সুরক্ষিত রাখা। আর এই লক্ষ্যেই বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নাগরিকদের সচেতনতার পাঠ দেন শিবু দাস। কিন্তু এবার আর রাস্তায় নেমে নয়। নিজেকে ঘরবন্দি করে করোনা থেকে মানুষকে বাঁচার বার্তা দিলেন সাধারণ সময়ে গাড়ি চড়ে শহরের ওলিগলি ঘুরে বেরিয়ে সেফ ড্রাইভ সেভ। লাইফের বার্তা দেওয়া শিবু।

এবারে নয়া কি করেছেন শিবু? তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার বাড়ির চারিদিক বাঁশ দিয়ে ঘিরে দিয়েছি। না কেউ আসবে , না কেউ যাবে’। দক্ষিণ কলকাতার চারু মার্কেট এলাকার বাসিন্দা যে গলিতে থাকেন। সেখানে তো অনেকেই থাকেন। কেউ আপত্তি করছেন না? শিবু জানিয়েছেন, ‘না, এখনও পর্যন্ত সবাই আমাকে এই কাজের সাধুবাদ জানিয়েছেন।’

শিবুর গাড়ি চড়ে সামাজিক বার্তা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল নয় বছর আগে। চোখের সামনে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা দেখেছেন। পরিচিতদের দুর্ঘটনায় মৃত্যুও প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তাকে বেশ কয়েকটি বিষয় ভাবতে শিখিয়েছে। তার সেই মনের ভাবনা থেকেই লেক গার্ডেন্সের বাসিন্দা তবলা শিক্ষক শিবু দাস কে পথচলা শিখিয়েছে । আর যেন কেউ দুর্ঘটনার শিকার না হন। পেশা যাই হোক না কেন, মনের ইচ্ছে যদি থাকে তাহলে অসম্ভব কিছুই নয় তার উদাহরণ শিবু দাস।

দুর্ঘটনার হাত থেকে সহ নাগরিকদের বাঁচানো। আর তাই পথে নেমে পথচলতি মানুষকে সচেতন করতে নিজের মোটর বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ান এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। দু চাকার গাড়িতে নানান সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড, পোস্টার। তবলার শিক্ষকতা থেকে যে আয় হয় তার একটা অংশ দিয়ে তার দু চাকার গাড়িতে ভরান পেট্রোল। এরপর সময় বের করে দিনে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা প্রতিদিন শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ পূর্ব থেকে পশ্চিম নানা প্রান্ত চোষে বেড়ান। উদ্দেশ্য পথচলতি মানুষকে যারা বিশেষ করে যানবাহন চালান তাঁদের সচেতন করা।

তবে এই কাজ আপাতত এক্কেবারে বন্ধ। পথ ভুলে বাড়িতে থেকেই সামাজিক বার্তা দিচ্ছেন তিনি।