রাজকোট: ৩০ বছর রঞ্জি জয়ের হাতছানি বাংলা দলের সামনে। সেই লক্ষ্যে জোড়া পরিবর্তন নিয়ে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রঞ্জি ফাইনালে মাঠে নামল বাংলা। কিন্তু খেতাব দখলের ম্যাচে টসভাগ্য সঙ্গ দিল না বাংলা অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণের। ঘরের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন সৌরাষ্ট্র অধিনায়ক জয়দেব উনাদকাট।

ঋদ্ধিমান সাহা খেলবেন নিশ্চিত ছিলো। তাই ফাইনাল যুদ্ধে শ্রীবৎস গোস্বামীকে ছাড়াই মাঠে নামতে হত বাংলাকে। পাশাপাশি ওপেনে অভিষেক রমন দীর্ঘদিন রানের মধ্যে না থাকায় কোচ অরুণ লাল চাইছিলেন একাদশে সুদীপ ঘরামিকে নিয়ে শুরু করতে। কিন্তু ফাইনালের মত বড় মঞ্চে সুদীপের আবির্ভাব প্রসঙ্গে কোচের সঙ্গে মতবিরোধ চলছিলো ঈশ্বরণের। তবে অরুণ লালের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়া একপ্রকার নিশ্চিত ছিলোই। সেইমতো ঋদ্ধিমানের পাশাপাশি ফাইনালে বাংলা একাদশে রমনের পরিবর্তে জায়গা করে নিলেন সুদীপ ঘরামি। বাকি দল অপরিবর্তিত।

অন্যদিকে একাদশে একটিমাত্র পরিবর্তন নিয়ে ফাইনালে বাংলার বিরুদ্ধে মাঠে নামল সৌরাষ্ট্র। একাদশে একমাত্র পরিবর্তন বলতে চেতেশ্বর পূজারার অন্তর্ভুক্তি। রাজকোটে ফাইনালের জন্য তৈরি বাইশ গজ সেমিফাইনালের তুলনায় অনেকটাই শুকনো। যা ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এমন পিচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বিপক্ষের ঘাড়ে রানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি সৌরাষ্ট্র অধিনায়ক।

সৌরাষ্ট্র অধিনায়ক বল হাতে আবার রঞ্জির সর্বকালের রেকর্ড তৈরির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছেন। উল্লেখ্য, ফাইনালে তাঁর নামের পাশে ৪ উইকেট লিখতে পারলেই রঞ্জির একটি মরশুমে সর্বাধিক উইকেট দখলের নজির গড়বেন উনাদকাট।

তবে নজর থাকবে বাংলার পেসার ত্রয়ী ইশান পোড়েল, মুকেশ কুমার, আকাশ দীপের দিকেও। সেমিফাইনালে শক্তিশালী কর্ণাটকের ব্যাটিং লাইন-আপ গুড়িয়ে দেওয়ার পর ৩০ বছরের খরা কাটাতে বাংলার ভরসার অনেকটা জুড়েই এই পেসার ত্রয়ী।

ফাইনালে বাংলার একাদশ: অভিমন্যু ঈশ্বরণ (অধিনায়ক), সুদীপ ঘরামি, সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, মনোজ তিওয়ারি, ঋদ্ধিমান সাহা (উইকেটরক্ষক), অনুষ্টুপ মজুমদার, শাহবাজ আহমেদ, অর্ণব নন্দী, আকাশ দীপ, মুকেশ কুমার ও ইশান পোড়েল।

ফাইনালে সৌরাষ্ট্রের একাদশ: হার্ভিক দেশাই, অভি বারোত (উইকেটরক্ষক), চেতেশ্বর পূজারা, বিশ্বরাজ জাদেজা, শেলডন জ্যাকসন, অর্পিত বাসবদা, চিরাগ জানি, প্রেরক মানকড়, ধর্মেন্দ্রসিং জাদেজা, জয়দেব উনাদকাট (অধিনায়ক) ও চেতন সাকারিয়া।

 

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প