সৌময় ঘোষালঃ স্বর্ণ যুগ থেকে শুরু করে আজকের দিনেও তাবড় বাংলা সিনেমার পরিচালক থেকে শুরু করে অভিনেতাদের কাছে বটগাছের মত ছিলেন তিনি। যিনি বাংলা সিনেমা থেকে শুরু করে বাংলা নাটককে দিয়েছেন অনেক কিছু। পেয়েছেন অনেক সম্মান।

বাংলা সিনেমার স্বর্ণ যুগে যিনি উত্তম কুমারের পাশপাশি যিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার গুনে সকল দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন সেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় রবিবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে। বাংলা সিনেমা হয়ে গেল অভিভাবকহীন। বিগত কিছুদিন ধরেই তিনি ভর্তি ছিলেন বেলভিউ নার্সিংহোমে।

রবিবার জানা গিয়েছে আর নেই সকলের প্রিয় অপু। সকলকে ফাইট করার অনুপ্রেরণা জোগালেও ফিরতে পারলেন না ক্ষিদ্দা। প্রায় কয়েক দশক ধরে বাংলা দর্শকদের কাছে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কেবলমাত্র অভিনয় ই নয় কবিতা এবং আবৃত্তির মাধ্যমেও বারবার দর্শকদের মন জয় করেছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে শেষ হয়ে গেল বাংলা সিনেমার এক অধ্যায়। বিগত ৪০ দিন ধরে তিনি ভর্তি ছিলেন বেলভিউ নার্সিং হোমে। আপ্রাণ লড়াই চালিয়েছিলেন উদয়ন পণ্ডিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হলেন বাংলার এবং বাঙ্গালির অত্যন্ত প্রিয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিত রায়ের অপুর সংসারের মাধ্যমে সিনে জগতে যাত্রা শুরু করলেও একের পর এক পরিচালকের সিনেমাতে কাজ করেছিলেন তিনি।

বাংলা সিনেমার এক চলমান প্রতিষ্ঠান ছিলেন তিনি। কেবল অভিনেতাই নয় তিনি কলম হাতেও ছিলেন সমান স্বাচ্ছন্দ্য। লিখেছেন একের পর এক কবিতা। একাধিক সামাজিক বিষয় নিয়ে বারবার লিখেছেন, আর তার লেখা সাহস দিয়েছে হাজার হাজার বাঙ্গালিকে। পেয়েছিলেন দাদা সাহেব ফালকে সম্মান।

সত্যজিত রায়ের পরে তিনি পেয়েছিলেন ফরাসি সরকারের তরফে লিজিয়ন দা নর সম্মানও। হাজার হাজার দর্শক চেয়েছিলেন ফিরে আসুক সকলের প্রিয় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু রবিবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজকের দিনে একাধিক অভিনেতা ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করলেও বাঙ্গালির কাছে ফেলুদা মানেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। যা মন জয় করেছিল আট থেকে আশির।

আজও তাই সত্যজিত রায় পরিচালিত এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় অভিনীত সোনার কেল্লা অত্যন্ত জনপ্রিয়। আর ফেলুদা বলতেই ভেসে ওঠে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম। কেবল ফেলুদাই নয় দাগ কেটেছিলেন উদয়ন পণ্ডিত হিসেবেও। তাই আজও বাঙালি দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় হীরক রাজার দেশে। যিনি সকলকে শিখিয়েছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে।

একই ভাবে তিনি সমান সাবলীল অপুর সংসারের অপু হিসেবে। যিনি গ্রাম থেকে কলকাতা শহরে এসেছিলেন পড়াশোনার জন্য। সত্যজিত রায় পরিচালিত অপুর ট্রিলজির শেষ ভাগ অপুর সংসার হলেও সেখানেও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অপুকে।করেছিলেন এক নতুন সৃষ্টি। আর তাই বাংলা দর্শকদের কাছে অপু কোন চরিত্র নয় বরং রক্ত মাংসের মানুষ।

আর তার মধ্যে দিয়েই তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা তুলে ধরেছিলেন সকলের সামনে। একই রকম ভাবে রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবেও তিনি মন জয় করেছিলেন সকল তরুণীর। অপুর সংসার সিনেমার অপু এবং অপর্ণার সম্পর্কের বোঝাপড়া হোক বা বসন্ত বিলাপ সিনেমার অনুরাধা ও শ্যামের লড়াই এবং শেষে মিল হওয়া মন জয় করেছিল সকলের।

আর তাই ফুটবল মাঠের ইষ্টবেঙ্গল মোহনবাগানের মত বাংলা সিনেমাতেও তাই উত্তম না সৌমিত্র তাই নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ছিল এক অসম লড়াই। কিন্তু তিনি নিজে কোন লড়াইতে না থেকেও বারবার প্রমাণ করে গিয়েছেন নিজেকে। জয় বাবা ফেলুনাথ, অরণ্যর দিনরাত্রি, ঘরে বাইরে, দেবীর মত সিনেমাতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। প্রতিটা চরিত্রে নিজেকে ভেঙ্গে আবার তৈরি করেছেন নিজের মত করে।

সত্যজিত রায়ের হাত ধরে সিনে জগতে আসার পরে কাজ করেছেন মৃণাল সেন, তপন সিনহা থেকে শুরু করে একের পর এক পরিচালকের সঙ্গে। কাজ করেছেন বর্তমান সময়ের পরিচালকদের মধ্যে ঋতুপর্ণ ঘোষ থেকে শুরু করে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায়ের সঙ্গেও। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সিনে দুনিয়ার মাথা থেকে সরে গেল একটি হাত।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।