রিয়াধ: ফাঁসি হচ্ছে না মুর্তাজা কুরেইরিসের৷ ২০২২ সালে মুর্তাজা জেল থেকে ছাড়া পাবে৷ মুর্তাজার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটি হল সরাসরি নাশকতায় মদত দেওয়া৷ পুলিশের দাবি, মুর্তাজার বড় ভাই আলি কুরেইরিস আওয়ামিয়া শহরের থানায় পেট্রোল বোমা ছুঁড়েছিলেন৷ সেই সময় তার সঙ্গে ছিল মুর্তাজা। সেই ঘটনার পরে আলিকে মেরে ফেলা হয়৷ মুর্তাজার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সব অভিযোগ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সরকার৷

সরকার দাবি জানায়, জেরায় সব স্বীকার করেছে মুর্তাজা৷ যদিও মুর্তাজার পরিবারের অভিযোগ, প্রবল অত্যাচার চালিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে৷ বিচারের নামে প্রহসন চালানো হয়েছে৷ মুর্তাজার কি ফাঁসি হবে ? নাকি তার শিরচ্ছেদ করা হবে প্রকাশ্যে ? ভয়ঙ্কর সেই শাস্তির পদ্ধতি নিয়ে চলে জল্পনা৷ মানবাধিকার সংগঠনগুলি সোচ্চার হতে শুরু করে৷ তাঁর ফাঁসির খবর নিয়ে সৌদি আরবের শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধিতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে৷ আন্তর্জাতিক স্তরেও কুরেইরিসের এই বিষয়টি নিয়ে তুমুল তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়৷ সেই সব বিরোধিতা-বিতর্ককে মাথায় রেখেই কুরেইরিসকে ফাঁসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার৷

পড়ুন: পাকিস্তান মোটেই ভারতের পিছনে ঘুরছে না: বিস্ফোরক ইমরান

সরকারি আধিকারিক জানায়, মুর্তজাকে ফাঁসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা থেকে শুরু করে আরও বেশ কিছু অভিযোগ ছিল৷ সমকালীন বিশ্বে সবথেকে কনিষ্ঠতম এই বিদ্রোহী মুর্তাজা কুরেইরিস এখন সৌদি জেলে বন্দি৷ অভিযোগ তার যখন ১০ বছর বয়স, তখন সরকার বিরোধী সাইকেল মিছিলে অংশ নিয়েছিল৷ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই তথ্য দেয়৷ সেই সঙ্গে অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এও জানায় যে মুর্তাজাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারদোরও করা হয়৷

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের কথা৷ প্রবল গণ আন্দোলন চলছিল সৌদি আরবে৷ সৌদি রাজতন্ত্র পরিচালিত নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য মুর্তাজা কুরেইরিস ও তার বন্ধুরা সাইকেল মিছিল করেছিল৷ দেশের পূর্ব প্রান্তে সেই মিছিল করার সময় সরকারের নজরে আসে তার গতিবিধি৷ তারপর থেকেই মুর্তাজার নাম ছিল পুলিশের খাতায়৷ তিন বছর এমন পর্যবেক্ষণ চলে৷ এরই মাঝে ১৩ বছর বয়স হলে গোপনে সৌদি আরব থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাহারিনে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে ধরা পড়ে মুর্তাজা৷