রিয়াধ: করোনা ভাইরাসের জন্য লকডাউন মানছে গোটা বিশ্ব। তবে ঘরবন্দি থাকার দু’মাস কাটিয়ে এবার অল্প অল্প করে খুলছে সবকিছুই কারণ শিথিল হচ্ছে নিয়ম। সেখানে বাদ যায়নি ধর্মীয়স্থানও। তাই এবার মসজিদ খুলেছে উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরবে।

রিয়াধের অন্যতম বৃহত্তম মসজিদের তরফে আব্দুলমাজিদ আল মহসিন জানিয়েছেন, “দয়া পাওয়া গিয়েছে, ভেবে দারুন লাগছে আমরা মসজিদে এসে নমাজ করতে পারছি”।

মসজিদের প্রধানদের তরফে জানানো হয়েছে, সকালের নমাজের জন্য মুখে মাস্ক থাকা জরুরি, হ্যান্ডশেক করা যাবে না এবং প্রত্যেককে অন্ততপক্ষে ২ মিটার দূরে থাকতে হবে।

তবে বয়স্ক এবং ১৫ বছরের নিচে যে সব বাচ্চাদের বিশেষ রোগ আছে তাঁদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে না। দু’মাসের লকডাউনের পরে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরবে। তবে গোটা দেশে এই নিয়ম লাগু হলেও পবিত্র শহর মক্কা এই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম।

মে মাসের ৩১ তারিখ অন্তর্দেশীয় ভ্রমণ, মসজিদে নমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শেষ হয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম মক্কা। সেখানে কার্ফু দুপুর ৩টে থেকে সকাল ৬টা অবধি অ্যাডজাস্ট করা হবে। তবে মক্কায় মসজিদে গিয়ে নমাজ শুরু করা সম্ভব হবে জুন মাসের ২১ তারিখ থেকে।

ইতিমধ্যেই মে মাসের ২৮ তারিখ থেকে কার্ফুর সময় পরিবর্তন হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজ এবং উমরাহ উপলক্ষ্যে তীর্থযাত্রীরা এখানে ভীড় জমিয়ে থাকেন যা এবছরের মতন বন্ধ করা হয়েছে।

সৌদি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল ডিসট্যানসিং ভীষণভাবে জরুরি। ৫০ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে সোশ্যাল ডিসট্যানসিংয়ে নজর দিয়ে বিউটি পার্লার, হেলথ এন্ড স্পোর্টস ক্লাব, বিনোদন ক্লাব এবং সিনেমা হল বন্ধ থাকছে।

কিছুক্ষেত্রে অর্থনীতি সংক্রান্ত এবং বাণিজ্যিক কাজকর্মেরও অনুমতি দেওয়া হবে। পাইকারি এবং রিটেল দোকান এবং শপিং মল এবং ক্যাফের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকছে।

নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মার্চ মাসের শুরুর দিকে সৌদি আরবই প্রথম সাময়িকভাবে লকডাউন ঘোষণা করেছিল কাতিফ অঞ্চলে, সেখানে অনেক শিয়া মুসলিমদের বসবাস বলেই জানা যায়।

৩০ মিলিয়ন জনসংখ্যার সৌদি আরবে করোনা সংক্রমণ ৮৩,৩০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৮০ জনের। সাত উপসাগরীয় দেশের মধ্যে যা সবচেয়ে বেশি।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প