রিয়াধ: পরিবর্তন দুনিয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য আরও একধাপ এগিয়ে গেল সৌদি আরব। বিদেশ ভ্রমণ করতে সৌদি মহিলাদের আর পুরুষ অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এমনই ফরমান জারি করা হয়েছে।

এতদিন বিদেশ ভ্রমণ কিংবা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হলে সৌদি আরবের মহিলাদের স্বামী, বাবা কিংবা কোনও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতির প্রয়োজন হতো।

নতুন আইন অনুযায়ী ২১ বছর বয়সের বেশি সৌদি মহিলারা পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়াই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই সঙ্গে বিদেশে যেতে পারবেন একলাই। এতদিন পর্যন্ত ঘরের বাইরে সৌদি মহিলাদের যেতে হলে পুরুষ অভিভাবক দরকার হত। সেটি অভ্যন্তরীণ বা বিদেশ যে কোনও ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হত। এই আইনে কিছু সংস্কার করল সৌদি রাজপরিবার।

এখনও বাদশা হননি। যুবরাজ তকমা রয়েছে মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে। কিন্তু যেভাবে একের পর এক আধুনিক চিন্তা ভাবনার আইন প্রয়োগ করছেন তাতে অদূর ভবিষ্যতে সৌদি আরবে কড়া ইসলামিক নিয়মটাই ভুলতে শুরু করবেন দেশবাসী। তিনি কার্যকরী শাসন ক্ষমতা নেওয়ার পরেই কড়া ইসলামি আইনের সংস্কার শুরু হয়েছে। এতে কখনও সৌদি মহিলাদের গাড়ি চালানো, কখনও সিনেমা হল পুনরায় খুলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরা জানাচ্ছে, মহিলাদের জন্য নতুন আইন চালুর ফলে শিশুর জন্ম নিবন্ধন, বিবাহ ও বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য নিজেদের নাম একলাই নথিভুক্ত করতে পারা যাবে।
বিবিসি জানাচ্ছে, নতুন আইনটি চালু হওয়ায় চাকরির ক্ষেত্রে লিঙ্গ, শারীরিক অক্ষমতা বা বয়সের কোনও বৈষম্য রইল না।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, সৌদি আরবের শাসক যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন দেশকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছেন। তাঁর নির্দেশেই সৌদি মহিলাদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে মহম্মদ বিন সলমন চমকপ্রদ পদক্ষেপ নেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনীতির খোলনলচে বদল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের উপস্থিতি ২২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তিনি।

তবে সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সিংহাসনের দাবিদার হিসেবে মেনে নিতে চাননি। অন্যান্য যুবরাজ, রাজকুমারীদের নৃশংসভাবে খুন করিয়েছেন। এই নিয়ে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েছিল আলোড়ন। তবে এই ঘটনার কোনও প্রমাণ মেলেনি।