মুম্বই: সেবির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিকিউরিটিস অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে (স্যাটে) যাচ্ছে প্রাইসওয়াটার হাউস৷ গত বুধবার সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া প্রাইসওয়াটার হাউসকে সত্যম কেলেঙ্কারির জন্য দুবছরের জন্য অডিট নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়৷ তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা এই পথে আবেদন করে প্রাইসওয়াটার স্থগিতাদেশ পেলেও তার ব্যবসার ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এবং সেক্ষেত্রে মক্কেল হারানোর ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে ৷

সেবির নির্দেশে প্রাইস ওয়াটার সংস্থার পাশাপাশি দুজন পার্টনারকে তিনবছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে ৷ বাজার নিয়ন্ত্রক প্রাইস ওয়াটার এবং দুই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট এস গোপালকৃষ্ণনন এবং শ্রীনিবাস তালুরীকে ১৩০.৯ মিলিয়ন টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ৷ এদের তিনজনকে ৭ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ওই টাকার উপর ১২ শতাংশ সুদ সহ ফেরত দিতে হবে ৪৫ দিনের মধ্যে৷

তাছাড়া সেবি নথিভুক্ত যেসব সংস্থা প্রাইস ওয়াটারের সহযোগী হয়ে অডিটের কাজ করে এবং সার্টিফিকেট ইস্যু করে থাকে তাদের দুবছর এভাবে কাজ করতে পারবে না৷ ওই সংস্থাগুলি সেবি নিষিদ্ধ হচ্ছে ফ্রডুলেন্ট অ্যান্ড আনফেয়ার ট্রেড প্রাকটিসেস রেগুলেশন অনুসারে৷ সেবির অধিকর্তা জি মহালিঙ্গম ১০৮ পাতার একটি অর্ডার দিয়েছেন৷
সত্যমের এই মামলাটি ২০০৯ সালের৷ যেখানে সত্যম কম্পিউটার সার্ভিসেসের চেয়ারম্যান বি রামালিঙ্গরাজু স্বীকার করে নিয়েছেন সত্যমের হিসেবের খাতায় আর্থিক কারচুপি হয়েছিল ৫০.৪ বিলিয়ন টাকা৷ এরপরেই সেবি তদন্ত শুরু করে এবং ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতেই শো-কজ নোটিশ পাঠান হয় প্রাইস ওয়াটার এবং তার সহযোগীদের ৷

পরবর্তীকালে ২০১২ সালে ফের প্রাইসওয়াটার হাউসকে ফের নোটিশ পাঠান হয়৷ প্রায় এক দশক ধরে অনুসন্ধান চলতে থাকায় এবং ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি ত্বরান্বিত করার কথা বলায় ওই বছরের মে-জুন মাসে মামলার শুনানি হয়৷ তখন সুপ্রিম কোর্ট সেবিকে ছয় মাসের মধ্যে প্রাইসওয়াটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়৷ তারপর সেবি পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখেছে স্ট্যাচুইটারি অডিটর সহযোগিতা ছাড়া এমন জালিয়াতি এবং মিথ্যা উপস্থাপনা সম্ভব নয়৷