সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সন্দীপ রায়ের বয়স তখন দশ । সন্দীপ রায় বাবার কাছে আবদার করেন ছোটদের জন্য একটি সিনেমা বানানোর জন্য । সত্যজিৎ রায়ও ভাবছিলেন ছোটদের জন্য একটি সিনেমা বানাবেন ।

গুপী বাইন , বাঘা বাইন। মুক্তি পেয়েছিল আজকের দিনেই। উপেন্দ্রকিশোরের গুগাবাবার স্ক্রিপ্ট তৈরি। শুধু মিলছে না প্রযোজক। শেষে মুম্বই থেকেও এসেছিল প্রযোজক। পারফেকশনিস্ট সত্যজিৎ না করে দিয়েছিলেন।

সেই মুম্বইয়া প্রযোজক কে জানেন? স্বয়ং রাজ কাপুর ও তার আর.কে ফিল্মস। কিন্তু সত্যজিৎ রায় পিছিয়ে গিয়েছিলেন একটি জায়গাতেই। রাজ কাপুর বলেছিলেন গুপী হবেন পৃথ্বীরাজ কাপুর, বাঘা শশী কাপুর। এই শর্তে রাজি ছিলেন না তিনি। কেনই বা হবেন? যে মানুষ সন্তোষ দত্ত ছাড়া ফেলুদা সিরিজই আর করলেন না তিনি কীভাবে তাঁর ভাবনার সঙ্গে না মিললে কীভাবে তিনি ছবির জন্য রাজি হবেন?সেই সময়ে সত্যজিৎ রায়ের বেশির ভাগ ছবির প্রযোজক আর ডি বনসল । কিন্তু সেই সময়ে রাজনৈতিক সমস্যা ছিল। উনি রাজি হচ্ছিলেন না ছবিতে বিনিয়োগ করতে। অন্য প্রোডিউসার আসছিল না তা নয় , কিন্তু গান বিশেষ নেই। মহিলাও নেই। এমন ছবি কে দেখবে? ততদিনে বিখ্যাত হয়ে গিয়েও তাঁর উপর এই ভরসা রাখতে পারছিলেন না প্রযোজকরা।

তখনই প্রযোজক হিসেবে এগিয়ে এসেছিলেন রাজ কাপুর। কিন্তু মুখ্য দুই চরিত্রের আপসে তিনি যেতে চাননি। অনেক টালবাহানার পর নেপাল দত্তে ও অসীম রাজি হন। পূর্ণিমা পিকচারস ছবিটি প্রযোজনা করে।

১৯৬২ সাল থেকে ছবি নিয়ে ভেবে। শেষে সেটে ছবি ওঠে ১৯৬৮ সালে। মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালের ৮ মে। মিনার, বিজলী, ছবিঘর, গ্লোবে মুক্তি পেয়েছিল গুগাবাবা। তারপরে যা হয়েছে তা ইতিহাস।

সত্যজিৎ জায়া বিজয়া রায়ের লেখা ‘আমাদের কথা’ থেকে জানা যায়, সন্দীপ রায় চেয়েছিলেন বাবা এই গল্পটি নিয়ে সিনেমা বানাক। ছেলের অনুরোধ রক্ষা করতে সত্যজিৎ যে কী পরিমাণ কাঠ খড় পুড়িয়েছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ছবির চিত্রনাট্য ও সঙ্গীত সমস্ত ছিল তাঁর নিজের। আসলে প্রযোজককে টাকা ফেরত দিতে চাইতেন সত্যজিৎ। তাই কম খরচে ছবি বানাতে চেষ্টা করতেন। তাই সিনেমার গান রচনা ও সুরারোপ তিনিই করেন।

গুগাবাবাছবি ১১ বছর পর সত্যজিৎ রায় তৈরি করেছিলেন এই সিরিজের দ্বিতীয় ছবি। তৈরি করেন কালজয়ী হীরক রাজার দেশে। সন্দীপ রায় তৈরি করেন তৃতীয় সিকোয়েল ‘গুপী বাঘা ফিরে এলো’। তাতে যে সত্যজিৎ ছোঁয়া ছিল তা স্পষ্ট।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.