সত্যজিৎ স্মরণে মমতাশঙ্কর ছবি-মিতুল দাস

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্বয়ং সত্যজিত রায় শুধু তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, তিনি না পিরলে শুটিং শুরু হবে না- জীবনের এ স্মৃতিকে আজও নেড়েচেড়ে দেখেন মমতাশঙ্কর৷ এ তো আসলে সেই সেই স্মৃতি যা হীরের থেকেও দামী৷ সময় যার গায়ে আঁচড় কাটতে পারে না৷

MAMATASANKAR
সত্যজিৎ স্মরণে মমতাশঙ্কর, ছবি-মিতুল দাস

অনেকদিনই ইচ্ছে ছিল সত্যজিতের চবিতে কাজ করবেন৷ কিন্তু হয়ে উঠছিল না৷ ‘গণশত্রু’ ছবিতে বিজ্ঞাপন দেখে তাঁর স্বামী ফোন করে ফোনটা ধরিয়ে দিয়েছিলেন৷ ওপারে তখন বিশ্বখ্যাত মানুষটা৷ নিজের মনের ইচ্ছেটুকু বলে ফেলা ছাড়া আর কিছুই গুছিয়ে বলেত পারেননি৷ উত্তরে যা শুনেছিলেন, তাও তাঁর কাছে ছিল বিরাট প্রাপ্তি৷ সত্যজিত বলেছিলেন, তিনি তাঁর কথা একবার ভেবেছিলেন৷ ‘মানিকদা’ যে তাঁর কথা ভেবেছেন এই তো অনেক৷ তখন ‘ঘরে বাইরে’ ছবির কাজ চলছিল৷ সেদিনের ফোনে যা শুরু হল তা ফোনেই থেমে থাকেনি৷ সে ছবিতে কাজও করেছিলেন মমতাশঙ্কর৷

‘শাখাপ্রশাখা’র সময় সত্যজিত বেশ অসুস্থ৷ বলেছিলেন, দুটো গল্পের কথা ভাবছেন, যে কোনও একটা নিয়ে কাজ করবেন৷ সেইমতো হয়েছিল শাখাপ্রশাখা৷ কিন্তু ‘আগন্তুক’ এর শুটিংয়ের সময় দেখা দিল বিপত্তি৷ সত্যজিতের ফোন যখন গেল তখন মমতাশঙ্কর বিদেশ ট্যুরের জন্য টাকা নিয়ে ফেলেছেন৷ বিদেশী আয়োজকরাও শো ক্যানসেল করতে নারাজ, এদিকে হাতে সত্যজিতের ছবি৷ শেষমেশ সত্যজিতকেই জানিয়েছিলেন সমস্যাটি৷ উত্তরে তিনি বলেছিলেন,  মমতাশঙ্কর ফিরলে তবেই শুটিং শুরু হবে৷ তাঁকে ছাড়া এ ছবির শুটিং শুরু হবে না৷ এ তাঁর কাছে বিরাট প্রাপ্তি৷ সারা বিশ্বে বরেণ্য মানুষটি যে তাঁকে ছাড়া ছবি না করার কথা ভেবেছেন, এ এমন এক প্রাপ্তি, কোনও পুরস্কার যা ছুঁতে পারে না৷