সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্য়ায়:কংগ্রেসের একজন সক্রিয়কর্মী হিসেবে কাজ করতে করতে সতীনাথ ভাদুড়ীকে পূর্ণিয়া জেলা কংগ্রেসের সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছে৷ কিন্তু দলের কাজকর্ম দেখে ক্রমশ অসন্তুষ্ট হয়ে ১৯৪৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দেন তিনি। কথিত আছে কংগ্রেসে থাকলে মন্ত্রীও হওয়ার জন্য তাঁর কাছে অফার ছিল ৷ কিন্তু তিনি সেই প্রলোভনে পা দেননি৷ বরং আরও বেশি করে মন দেন লেখাতে৷ ফলে একে একে লিখে ফেললেন চিত্রগুপ্তের ফাইল, ঢোঁড়াইচরিত মানস, গণনায়ক সত্যি ভ্রমণ কাহিনি , অচিন রাগিনী, পত্রলেখার বাবা ,জলভ্রমি, দিকভ্রান্ত ইত্যাদি৷

১৯০৬ সালের ২৭সেপ্টেম্বর বিহারের পূর্ণিয়ার ভাট্টাবাজারে জন্ম গ্রহণ করেন সতীনাথ ভাদুড়ী৷ তাঁদের আদি বাড়ি কৃষ্ণনগর হলেও জীবিকার সূত্রে পূর্ণিয়ায় এসেছিলেন তাঁর বাবা ইন্দুভূষণ ভাদুড়ী৷ পূর্ণিয়া জেলা স্কুল থেকে ১৯২৪ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করেন। তারপর পাটনা সায়েন্স কলেজ থেকে আই এসসি পাস করেন৷ পরে অর্থনীতিতে বিএ এবং এম এ পাশ করেন৷ পাটনা আইন কলেজ থেকে বিএল পাশও করেছিলেন তিনি।
এদিকে গান্ধিবাদে আকৃষ্ট হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।১৯৪০ সালের জানুয়ারি মাসে সতীনাথ ভাদুড়ী প্রথমবারের জন্য কারারুদ্ধ হন।এরপর ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি দ্বিতীয়বার কারাবাসকালে জেল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করেন ৷ তখন তাঁকে ভাগলপুর সেন্ট্রাল জেলে বদলি করা হয়। এই জেলে থাকাকালীনই তিনি ‘জাগরী’ উপন্যাসটি লিখেছিলেন। এরপর ১৯৪৪ সালে তিনি তৃতীয়বার কারাবরণ করেন। তখন তাঁর সঙ্গে জেলে ছিলেন অনাথবন্ধু বসু ,ফণীগোপাল সেন,জয়প্রকাশ নারায়ণ, শ্রীকৃষ্ণ সিংহ, অনুগ্রহনারায়ণ সিংহ প্রমুখ।

লেখক হিসেবে তাঁর কেরিয়ারে বাধা ছিল না এমন নয়।প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কারটি সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘জাগরী’জন্য পেলেও, তা এক সময় ছাপার যোগ্য মনে করেনি ‘দেশ’ পত্রিকা৷ স্বদেশি আন্দোলনের জন্য জেলে বন্দী থাকাকালীণ এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন লেখক ৷ পরে লেখাটি পড়িয়েছিলেন বন্ধু বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে (বনফুল)৷ লেখাটি পড়ে রীতিমতো উত্তেজিত বনফুল উদ্যোগ নেন তা ছাপাবার৷ ভাইয়ের (চিত্র পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়) সঙ্গে দেশ পত্রিকার সহ-সম্পাদক সাগরময় ঘোষের ঘনিষ্ঠতা থাকায় জন্য সেই লেখার পাণ্ডুলিপি পাঠান হয় দেশপত্রিকায়৷ সেটি পাওয়ার এক মাস পরে অবশ্য সাগরময়বাবু ‘জাগরী’র পাণ্ডুলিপি অরবিন্দবাবুকে ফেরত দিয়ে জানিয়েছিলেন তা ছাপার জন্য মনোনীত হয়নি৷ কিন্তু লেখাটি পড়ে দাদার মতোই অরবিন্দবাবুরও মনে হয়েছিল তা অবশ্যই ছাপা দরকার৷ ফলে ওই লেখা নিয়ে তিনি চলে যান শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাশের কাছে ৷ কিন্ত সেই সময় তাঁর পত্রিকায় বনফুল এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস ধারাবাহিক ভাবে বের হচ্ছিল বলে তক্ষুনি ছাপানো সম্ভব ছিল না৷ কিন্তু লেখাটি পড়ে সজনীকান্ত দাশের মনে হয়েছিল অবিলম্বে তা ছাপানো দরকার৷ তাই এক হিন্দি দৈনিকের সম্পাদককে চিঠিতে নির্দেশ দেন- ‘জাগরী ছেপে ধন্য হতে৷’ অবশেষে তা ছাপা হল এবং জন্ম হল এক নতুন লেখক সতীনাথ ভাদুড়ীর৷ আর রবীন্দ্র পুরস্কার চালু হলে এই ‘জাগরী’ প্রথম নির্বাচিত হল পুরস্কারের জন্য৷

তবে জাগরী নিয়ে আলোড়ন ওঠার পর লেখা নির্বাচনের ভুল বুঝতে পারেন সাগরময়বাবুরা৷ শোনা যায় ওই লেখাটি অন্য কেউ পড়ে অমনোনীত করেছিল৷ ফলে ভুল শুধরে নিতে বেড়িয়ে পড়েন তিনি নিজেই ৷ সতীনাথ ভাদুড়ীর কাছে গিয়ে নতুন উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি চান৷ সতীনাথবাবু অবশ্য ফিরিয়ে দেননি বদলে সম্মতি দেন আর এক কালজয়ী উপন্যাস— ‘ঢোঁড়াই চরিত মানস’ ছাপার ৷ তা দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক হিসেবে বের হতে থাকে ৷ ১৯৬৫ সালের ৩০ মার্চ সতীনাথ ভাদুড়ীর মৃত্যু হয়৷

তথ্যঋণ- ইন্টারনেট এবং ইউকিপিডিয়া

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.