নয়াদিল্লি : বিতর্কিত গালওয়ান ভ্যালি থেকে পিছু হঠেছে চিনা সেনা। এই তথ্য মিলেছিল। কিন্তু এবার সেই তথ্যের স্বপক্ষে প্রমাণও পেল ভারত। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বলছে গালওয়ান ভ্যালি থেকে সত্যিই পিছু হঠেছে চিনা সেনা। ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে এই তথ্য।

৬ই জুলাই তোলা ওই ছবিগুলিতে পরিষ্কার, যে গালওয়ান ভ্যালির সংঘর্ষস্থলে আর চিনা সেনার উপস্থিতি নেই। সেনা ছাউনি, সাঁজোয়া গাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে ছবির মাধ্যমে দেখা গিয়েছে পিপি ১৪ এলাকায় নতুন করে রাস্তা নির্মাণ করেছে চিনা সেনা। এই রাস্তাগুলি গালওয়ান নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

নতুন ছবিতে দেখা গিয়েছে, যে রাস্তা চিনা সেনারা তৈরি করেছে তা খালি পড়ে রয়েছে। নতুন করে কোনও নির্মাণ কাজও চোখে পড়েনি। ভারত চিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষস্থল থেকে প্রায় দেড়-দুই কিমি দূরে চিনা সেনা ছাউনি তৈরি করা হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের হস্তক্ষেপে অবশেষে গালওয়ান ভ্যালি থেকে সরে যায় চিনা সেনা। চিনের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে টানা ২ ঘণ্টা ভিডিও কলে কথা বলেন দোভাল। ঠিক তারপরেই সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় বেজিং। সরকারি সূত্রের খবর, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ওয়াইয়ের মধ্যে দু’ঘণ্টার টানা বক্তব্যের আদানপ্রদান হয়েছে রবিবার।

সূত্রের খবর, টানা এই ভিডিও কলিংয়ে আলোচনায় সীমান্ত সংক্রান্ত নানাদিক উঠে এসেছে। ভারত-চিন সংঘাতে সারা বিশ্ব মুখ খুলেছে তবে চিনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। তাই শেষ পর্যন্ত ভারতের বড় জয় হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বার্তালাপের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছে ভারত।

দু-তিন কিলোমিটার রাস্তা পিছু হটা নিয়ে বিবাদ, ভারত-চিন মিলিটারি স্তরের আলোচনায় যা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। লাইন অফ কন্ট্রোলে পিপি-১৪ থেকে শেষ অবধি সবকটি পেট্রোল পয়েন্ট ভারতের, তেমনটাই দাবি জানিয়েছে ভারত। তবে ক্যাম্প তৈরি করেনি ভারত কারণ সেভাবেই চুক্তিবদ্ধ দুই দেশ। তবে যেহেতু চিনের তরফে ওখানেই তাঁবু খাটিয়েছে তাই নিজেদের রক্ষা করতে ভারতীয় সেনার তরফেও একই কাজ করা হয়েছিল।

এরপর সোমবারই, লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবর এসেছে। চিনের সেনাবাহিনী সরে গিয়েছে বলে আগেই খবর এসেছে। এবার সেই কথা স্বীকার করেছে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের বিদেশমন্ত্রী ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘গত ৩০ জুন কমান্ডার লেভেলের তৃতীয় বৈঠকের পর সরে গিয়েছে দুই দেশের সেনা।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ