পর্ণা সেনগুপ্ত : মেয়েটা কেমন যেন ছিল। মাথায় তেল চুপচুপে, রোগা প্যাকাটি। বিশেষ কেউ পাত্তা দিত না। বইয়ের আড়ালে মুখ গুঁজে কেটে যেত দিনের পর দিন। তার জীবনে ভ্যালেন্টাইনস ডে আসেনি। রোজ ডে, চকোলেট ডে সেসব তো স্বপ্ন তখন। তবে একটা সরস্বতী পুজো ছিল জানেন?

সে পুজো কেমন ঘোরের মধ্যে কাটত, একা একাই কাটত, তবু অদ্ভুত ঘোর লাগা, আবেগ ছিল। পুজোর ভোরে স্নান ছিল, আলপনা ছিল, ঠাকুরের পায়ে বইখাতা রাখা ছিল। আর ছিল একটা পাটভাঙা শাড়ি। হলুদ, লাল, গোলাপি, নীল আরও রংয়ের শাড়ি। মেয়েটা নীল শাড়িই বাছত।

মা সরস্বতীর চোখে যে অদ্ভুত নীলচে আভা, মেয়েটা তাকিয়ে থাকত শুধু সেদিকে। সেই নীলচে আভাতেই ভোর আসত, পুজোর ভোর। তার নিজের ভোর। একান্ত নিজের। দরকার ছিল না কোনও সঙ্গীর, কোনও বিশেষ বন্ধুর। তার জন্য কোনও দিনও আসেনি গোপন উড়ো চিঠি, কোনও রঙিন খাম।

তাই সরস্বতী পুজো একান্তই তার নিজের ছিল। কারোর সাথে ভাগ করার দায় ছিল না মেয়েটার। বাড়ির পুজো শেষে একছুট্টে স্কুলে। বন্ধুরা এসেছে কি? সেই বন্ধুগুলো, যাদের খুব নিজের বলে মনে করে সে? সেই প্রিয় বন্ধু যার জন্য মনে করে প্রতিদিন ফুল নিয়ে যায় স্কুলে?

বড় বোকা ছিল মেয়েটা। প্রিয় বন্ধু তো তখন তার বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত। স্কুলে আসলেও মেয়েটার জন্য সময় কোথায়? তবে আপশোষ ছিল না। একাই ভালো। সেলফি বা স্মার্টফোনের আগের যুগ সেটা। স্টুডিওতে ছবি তোলার যুগ, হাতে হাতে চিঠি দেওয়া নেওয়ার যুগ, চোখে চোখে কথা বলার যুগ।

প্রিয় বন্ধু তখন সেসবে মগ্ন। বিশেষ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরোনর পাসপোর্ট তো সরস্বতী পুজো। তাই তাকে আর পায় কে। ফুচকা খাওয়া, এই স্কুল থেকে সেই স্কুলে ঘোরা, মাঝে নিজের স্কুলে খিচুড়ি আর তরকারি, সাথে বোদে মাস্ট।

তাহলে ওই মেয়েটার কি হল? সেই যে বোকা বোকা একা একা মেয়েটা ? মেয়েটা তখন স্কুলের সিঁড়িতে বসে। চুপ করে। চোখ তখন মন্দিরের দিকে। সরস্বতী রয়েছেন যেখানে। সাদা ধবধবে একটা মূর্তি, হাতে বীণা, পায়ের কাছে রাজহাঁস, কি অদ্ভুত শান্তি সেখানে। আচ্ছা মা সরস্বতীও তো একা একাই আসেন, দাঁড়িয়ে থাকেন সারাদিন একাই, আবার চলেও যান একা।

সেই একা থাকার যে মাদকতা, তা কি বোঝে আনজনে? মা সরস্বতীকে জড়িয়েই একলা দিন যাপন করত মেয়েটা। গোটা সরস্বতী পুজো কেটে যেত নীল শাড়ি আর মা সরস্বতীর চোখের দিকে তাকিয়ে। সে এক অন্য রকম পুজো। তার নিজের পুজো। তার নিজের সরস্বতী। একলা থাকার পাসপোর্টেই খুশি নীলচে আলোর সেই সরস্বতী পুজো…আর সেই মেয়ে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।