সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে বাঙালি ‘মহিষাসুরমর্দ্দিনী’ শুনে অভ‍্যস্ত। কিন্তু বাগদেবীর আরাধনায় তাঁর কন্ঠে সরস্বতী বন্দনার ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিযায়। সেই স্বর। সেই উদাত্ত কন্ঠ, সেই উচ্চারণ, হালকা মিউজিকের সঙ্গের অনবদ্য স্তোত্র পাঠ মন ভরিয়ে দেওয়ার মতো।

তবে ১৯৩১ সালে ‘বসন্তেশ্বরী’ নামে প্রথম বার শোনা গিয়েছিল একটি অনুষ্ঠান, যেখানে বাণীকুমার শ্রীশ্রী চণ্ডীর কয়েকটি শ্লোক আবৃত্তি করেন। এই স্ত্রোত পাঠটি বসন্তেশ্বরীর অংশ ছিল কি না সেই তথ্য জানা যায়নি। তবে বসন্তে সরস্বতী পুজো হওয়ায় সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়াও যায় না। ১৯৩২-এর ষষ্ঠীর ভোরে প্রথম বার প্রচারিত হয় বেতারের কালজয়ী অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী।’ যা ছিল ১৯৩১ এর সেই সেই স্ত্রোত পাঠই। কিছু কাটছাঁট করে ষষ্ঠীর সকালে পরিবেশিত হয়।

সংস্কৃত রূপকের অন্তর্গত ‘বীথী’ নাট্য রচনাশৈলী অনুসরণে নতুন ভাবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ প্রণয়ন করেছিলেন বাণীকুমার। কয়েকটি গানে সুরযোজনা করেছিলন পণ্ডিত হরিশচন্দ্র ও রাইচাঁদ আর অধিকাংশ গানে পঙ্কজকুমার মল্লিক। গ্রন্থনায় ও শ্লোক আবৃত্তিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ।

সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রচলিত পূজা। সরস্বতী দেবীকে শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী ও আশীর্বাদাত্রী মনে করা হয়। বাংলা মাঘ মাসের ৫মী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা করে থাকে।বাগদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাজ করে।

পুরাণ অনুযায়ী দেবী সরস্বতী ব্রহ্মের মুখ থেকে উথ্থান। দেবীর সকল সৌন্দর্য্য ও দীপ্তির উৎস মূলত ব্রহ্মা। পঞ্চ মস্তকধারী দেবী ব্রহ্মা এক স্বকীয় নিদর্শন।

পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তি শ্বেত বস্র পরিধান করে থাকে যা পবিত্রতার নিদর্শন। দেবীর আসন কে পুষ্পশোভামন্ডিত করে রাখা হয়। পরিবারের সকল সদস্য খুব ভোরে স্নান শেষে পরিস্কার বস্র পরিধান করে দেবীর সামনে অবস্থান করে থাকে। পুরোহিত পূজা শুরু করবার আগ পর্যন্ত দেবীর মুখমন্ডল ঢাকা থাকে। পূজার অর্ঘ্যর পাশাপাশি দেবীর পূজার অারেকটি প্রধান অংশ ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যপুস্তক। সরস্বতী পূজার একটি বিশেষ অর্য্য হল পলাশ ফুল।