সুজয় পাল, কলকাতা: একসময় সারদা সাম্রাজ্য চালিয়েছেন৷ ছিলেন নম্বর-টু৷ সংস্থা যা-ই হোক না কেন, সেখানকার প্রশাসন চালানোর দক্ষতা বেশ ভালই রয়েছে তাঁর৷ তবে, সময়ের ফেরে এখন তিনি বিচারাধীন বন্দি৷ ঠাঁই হয়েছে দমদম সেন্ট্রাল জেলে৷ তাতে কী, তাঁর দক্ষতাই এখন কাজে লাগছে সেখানে৷ তিনি সারদাকাণ্ডে অভিযুক্তদেবযানী মুখোপাধ্যায়৷

সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরে দমদম জেল হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের বেশকিছু দায়ভার সামলাচ্ছেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়৷ দমদম জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানকার হাসপাতালে কোন দিন, কোন চিকিৎসক বসবেন, সেই খোঁজ বন্দি-রোগীদের জানিয়ে দেন তিনি৷ এছাড়াও চিকিৎসকরা পথ্য হিসেবে যে সব খাবার খেতে বলেন, রোগীরা সে সব নিয়মমতো খাচ্ছে কিনা, সেদিকেও তিনি খেয়াল রাখেন৷ রোগীরা নিজেদের যত্ন নিচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারেখোঁজখবর নেন৷ এর পাশাপাশি হাসপাতাল সংক্রান্ত বিভিন্ন লেখালেখির কাজও করেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়৷ দমদম সেন্ট্রাল জেলের সুপার নবীন সাহা বলেন, ‘‘দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের যেহেতু যথেষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাই এখানকার হাসপাতালের কিছু লেখালেখির কাজ তিনি করেন৷’’

- Advertisement -

জেল সূত্রে খবর, দেবযানী মুখোপাধ্যায় নিজের ইচ্ছাতেই এই কাজ বেছে নিয়েছেন৷ তাঁর বোনডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করছেন৷ তাই চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁরও বেশ উৎসাহ রয়েছে৷ পাশাপাশি বোনের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হলে,তিনি কিছু পরামর্শ নেন বলেও জানা গিয়েছে৷হাসপাতাল ছাড়াও সম্প্রতি জেলের আরও একটি দায়িত্ব পেয়েছেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়৷ দমদম জেলে নতুন কোনও মহিলা বন্দিগেলে, তাঁর ‘আইডেনটিফিকেশন মার্ক’ অর্থাৎ শনাক্তকরণ চিহ্ন খুঁজে বের করেতা লিখে রাখেন তিনি৷ জেলের এক কর্তা বলেন, ‘‘জেলে বিচারাধীন বন্দিরা অনেকেই অনেকরকম কাজ করে থাকেন৷ যে যেভাবে পারেন সাহায্য করেন৷ দেবযানী মুখোপাধ্যায়ও তাই করছেন৷’’

মনোবিদরা অবশ্য মনে করছেন, দীর্ঘদিন জেলে থাকার ফলে একটা সময় অবসাদ গ্রাস করতে থাকে অনেক বন্দিকে৷ তাই তাঁদের বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখা হয়, যাতে তাঁদের মন ভাল থাকে৷ এ ক্ষেত্রে দেবযানী মুখোপাধ্যায়ও দীর্ঘ দিন ধরে জেলবন্দি৷ সারদাকাণ্ডে মামলার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন আদালতেতাঁকে বহুবারনিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ সেই দিক থেকেও ধকল নিতেই হয়েছে তাঁকে৷ পাশাপাশি এই মামলায় একাধিক হেভিওয়েট নেতা গ্রেফতার হলেও, পরে তাঁদের অধিকাংশই জামিন পেয়ে গিয়েছেন৷ কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে জেলবন্দি থাকার পরেও জামিন না পাওয়ায়, অবসাদে ভুগতে শুরু করেছেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়৷ জেলের কর্মীদের অনেকের কাছে তিনি আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সময়৷ সেজন্য তাঁর মন ভাল রাখতে যেমন রূপটানের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তেমনই, হাসপাতালের কাজে তাঁকে ব্যস্তরাখার চেষ্টাও করা হয়েছে৷

আমানতকারীদের টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে ২০১৩-র এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের সোনমার্গের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয় সারদাকর্তা সুদীপ্ত সেন, ওই সংস্থার ডিরেক্টর দেবযানী মুখোপাধ্যায় এবং সংস্থারই অন্য এক ডিরেক্টর অরবিন্দ সিং চৌহানকে৷ রাজ্য সরকারের নির্দেশে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে৷ ২০১৪-য় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সারদাকাণ্ডের তদন্তভার নেয় সিবিআই৷ বর্তমানে সিবিআইয়ের দায়ের করা মামলাতেই বিচার চলছে সুদীপ্ত সেন, দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের৷