স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: এখন স্বেচ্ছায় রক্তদান উপঢৌকন বিনিময় দানে পরিণত হয়েছে। ছাতা, ব্যাগ, লাইট, থার্মোফ্ল্যাক্স ইলেকট্রনিকসের সীমা ছাড়িয়ে পিতল-কাঁসার বিনিময়দানে পরিণত হয়েছে৷

কিন্তু আজও অসংখ্য মানুষ এই মহানদানে কোন বিনিময় নিতে আগ্রহী নন। তাঁরা স্বেচ্ছায় মুমূর্ষু মানুষের জীবন দানে এই অমূল্য রক্ত দিতে কোন বিনিময় চান না। নিমতৌড়ি তমলুক উন্নয়ন সমিতি জেলায় অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যেখানে দিব্যাঙ্গদের উন্নয়নে নানান কর্মকাণ্ড চলে সারা বছর ধরে৷

শুধু তাই নয় হোম খেলাধুলা-গানবাজনা, চারা তৈরি, পোশাক তৈরি, সুন্দর সুন্দর সৌখিন সামগ্রী তৈরি করে চলে৷ প্রতি বছরই বিভিন্ন স্মরণীয় দিনে এবং প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎসবে রক্তদানের প্রথা ২০০০ সাল থেকে চলে আসছে। ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্মরণে চিকিৎসক দিবসে রক্তদানের আয়োজনে ৩৪জন স্বেচ্ছায় রক্ত দিল। তাদের মধ্যে মহিলা ১২ জন, পুরুষ ২২জন৷ এদের মধ্যে ৮জন দিব্যাঙ্গ হাসিমুখে রক্ত দেন৷

বাড়ি যাওয়ার সময় পেল অমূল্য উপঢৌকন যা কিনা তাদের বাড়ি সাজাতে বা ব্যক্তিগত জীবনে শুধু কাজে লাগবে তা নয় সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবনে, পৃথিবীর দূষণ রোধে ভীষণ প্রয়োজন৷ তাদের প্রত্যেকে ৫টি করে চারা গাছ দেওয়া হয়৷ মেহগিনী, বকুল, ছাতিম এই গাছগুলি বাড়ির উঠোনে, রাস্তার ধারে, খালের পাড়ে লাগিয়ে যত্ন নিলে আগামী দিনে অনেক বড় সম্পদে পরিণত হবে।

হোমে আবাসিকরা এবছর ২০ হাজার এই রকম চারা গাছ তৈরি করেছে৷ তাদের চারা সামাজিক কাজে লেগেছে এজন্য আনন্দিত সরস্বতী, বন্দনা, কবিতা। গত চার মাস ধরে মধুমিতাদি আর দুলালি মাসি তাদের হাতের কলমে শিখিয়ে কাজে উদ্বুদ্ধ করে যে চারাগাছ আজ এতো বৃহৎ দানের বিনিময়ে কাজে লেগেছে তাই তারা খুব খুশি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি জনাব সেক সুফিয়ান, প্রাক্তন বিধায়ক ও অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ ছাড়াও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা। প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ সামন্ত জানান, মহতি দানের মহতি উপহার পারস্পারিক সামাজিক দায়িত্ব পাল করতে পেরে ভীষণ গর্ববোধ হচ্ছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে জেলায় ২৫ জন মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে সফল দিব্যাঙ্গদের স্মারক, ব্যাগ, চারা ও পুষ্প স্তবক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। ৩৭বছরের প্রতিবন্ধী গৃহবধূ মুক্ত বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক থেকে সফল হয় তাকেও সম্মানিত করা হয়। রবীন্দ্র অনুরাগে জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান উপস্থিত অতিথিরা। সংসদ চলার জন্য অনুষ্ঠানে জেলার দুই সাংসদ মহাশয় উপস্থিত না পারলেও শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন।