কলকাতাঃ  কয়েকদিন ধরে জুনিয়র ডাক্তারদের লাগাতার আন্দোলনে শিকেয় ওঠে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। দফায় দফায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও ব্যথ হন। এই পরিস্থিতি এনআরএসে গিয়ে কিছুটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইএমএ-র সর্বভারতীয় সভাপতি শান্তনু সেন। সেখানে গিয়ে তাঁর বহিরাগত মন্তব্য নতুন করে আন্দোলনকে অন্য মাত্রা দেয়। এই অবস্থায় হাসপাতালে গিয়েও জুনিয়র ডাক্তাদের আন্দোলন-বিক্ষোভের মুখে ফিরতে হয় শান্তনুকে। এই অবস্থায় আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল তাঁকে।

সেখানকার রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরানো হয়েছে তৃণমূল বিধায়ক স্মিতা বক্সিকে। এমনটাই সূত্র জানা গিয়েছে। সূত্রে জানা গিয়েছে, আর জি করে শান্তনুবাবুর জায়গায় ওই পদে বসানো হচ্ছে প্রাক্তন পরিবেশমন্ত্রী ডাঃ সুদর্শন ঘোষদস্তিদারকে। এনআরএসে স্মিতাদেবীর জায়গায় আসছেন তৃণমূলের আরেক প্রভাবশালী চিকিৎসক নেতা বিধায়ক ডাঃ নির্মল মাজি। হঠাত রাতারাতি কেন শান্তনু সেন এবং তৃণমূলের এই প্রভাবশালী বিধায়ককে সরিয়ে দেওয়া হল তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান তর্ক বিতর্ক।

তবে সূত্রে জানা গিয়েছে এসএসকেএমে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহিরাগত মন্তব্য করেছিলেন। শুধু তাই নয়, জুনিয়র ডাক্তারদের এই আন্দোলনের পিছনে বড় কোনও মাথা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। আর এরপরেই জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পিছনে কোন রাজনৈতিক মাথা রয়েছে কিনা তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করতে শুরু করে স্বাস্থ্য দফতর।

সূত্রে জানা গিয়েছে, এই খোঁজখবর চালাতে গিয়ে জানা যায় জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের পিছনে শান্তনু সেন গোষ্ঠীর কয়েকজন প্রভাবশালী জুনিয়র ডাক্তার নেতার মদত রয়েছে। আর এই রিপোর্ট শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে যাওয়া মাত্র নড়েচড়ে বসে রাজ্য-প্রশাসন। আর এরপরেই আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির পদ থেকে শান্তনু সেনকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।