বাসুদেব ঘোষ, সিউড়ি: কবিগুরুর দেশে রবিবার থেকে শুরু হতে চলেছে পৌষ উৎসব৷ তাই শান্তিনিকেতনে এখন সাজো সাজো রব। তুঙ্গে শেষ প্রস্তুতি পর্ব৷ এই উপলক্ষে চূড়ান্ত ব্যস্ততা শান্তিনিকেতনের মেলা মাঠ জুড়ে৷ চারিদিকে পৌষের হাওয়া, চারিদিকে বাউল গান জেনো বলে দেয় শুরু হয়ে গিয়েছে পৌষ উৎসব৷ ২৩ ডিসেম্বর থেকে বৈতালিকের মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছে পৌষ মেলা৷ চলবে ছয় দিন৷ পৌষ মেলার মাঠে স্টল তৈরির কাজও প্রায় শেষের দিকে৷

জাঁকিয়ে শীত পড়েছে দক্ষিণবঙ্গে তাই এবার পৌষ মেলায় রেকর্ড ভিড় টানবে বলে মনে করছে বিশ্ব ভারতী কর্তৃপক্ষ৷ পৌষ মেলা মূলত গ্রামীণ স্বার্থ রক্ষা করে৷ তাই নিয়মের কিছুটা শিথিলতা পেতেই পারে। সেই কথা মাথায় রেখে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের দরজায় কড়া নাড়বেন বিশিষ্ট পরিবেশ বিদ সুভাষ দত্ত। এবার পৌষ মেলায় দূষণ নিয়ে ভিন্ন সুর দেখা গেল পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পৌষ মেলায় কালো জেনারেটর, কয়লার উনুন ব্যবহার নিষিদ্ধ৷ শনিবার বিশ্বভারতীতে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে এক প্রস্থ আলোচনা সেরে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান সুভাষ বাবু।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সুভাষ দত্ত বলেন, ‘মাটির বাস্তবতা দেখে আমার মনে হয়েছে এই মেলা অন্য মেলা থেকে চারিত্রিক এবং মানবিক মূল্যবোধে ভিন্ন। এই রাজ্যে মোট ১৭টি মেলা নিয়ে কাজ করেছি। এই মেলা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি স্থির করেছি গ্রিন ট্রাইব্যুনালে এই মেলার জন্য আলাদাভাবে আবেদন করব। এই মেলা অনেকগুলি কারণে ঐতিহ্য মণ্ডিত। ২০০৭ সালে কলকাতা বইমেলা মামলা সংক্রান্ত আইনের প্রসঙ্গে আমি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আবেদন জানাব নতুন করে এই আইনের বিষয়ে ভাবার জন্য। শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলায় নীতিগতভাবে আমরা কয়লা জ্বালানী ব্যবহারে বিরোধী। কিন্তু গ্রামের একজন অল্প পুঁজির গ্রামীণ পিঠে ব্যবসায়ীকে আমরা জোর করতে পারি কারণ এই মেলা কর্পোরেট মেলা নয়। এর একটা মানবিক মূল্য অনেকটা।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে পৌষ মেলায় দূষণ নিয়ে একটা মামলা দায়ের করেন। তার প্রেক্ষিতে তিন জনের একটি কমিটি গঠন হয় যাঁরা পৌষ মেলায় দূষণ নিয়ে পরিবেশ আদালতকে জানান। সুভাষ দত্ত ছিলেন এই কমিটির একজন সদস্য।

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত এবং বোলপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় সরকার। ভাঙা মেলায় দূষণ রুখতে পরিবেশ আদালতের হস্তক্ষেপে গত বছর থেকেই পৌষ মেলা ছয় দিনের করে দেওয়া হয়। এমনকি পৌষ মেলায় কালো ধোঁয়ার শব্দকারী জেনারেটর ব্যবহার, কয়লা, কাঠের উনুনের ব্যবহার, প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয় আদালত।

বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুত চক্রবর্তী জানান, এবার জেনারেটর ব্যবহার জনিত কারণে দূষণ থেকেই শিক্ষা নিয়ে আগামী পৌষ মেলার তিন দিন আগে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এদিনই পৌষ মেলার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেন উপাচার্য বিদ্যুত চক্রবর্তী। কিন্তু এবার মেলায় কয়লা, কাঠের উনুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে বলে এদিনের বৈঠকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এদিন বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই ইঙ্গিত দিলেন পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত।

ইতিমধ্যে দেশ বিদেশ থেকে মেলাতে আসতে শুরু করে দিয়েছেন বহু মানুষ৷ দেশ বিদেশের নামী দামী বাউলরাও আসতে শুরু করেছে মেলাতে৷ হস্ত শিল্প, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আধুনিকতার হিসাবে এই মেলা চিরকালই অনন্য।