স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: চিকিৎসক, রোগী, রোগীর আত্মীয় এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের চেনা ভিড়ের মাঝে হঠাৎই হাজির সান্তা ক্লজ। সকলের কাছে সেই চেনা ছবি মাথায় লালটুপি, কাঁধে ঝোলা৷ সাদা দাড়ির দেবদূতের মতো মানুষটিকে দেখে হঠাৎই বদলে গেলো হাসপাতালের আবহ।

সকলের মুখে যেন আনন্দের হাসি ফুটে উঠল৷ আবার অনেক রোগী তাঁকে দেখে যেন অনেকটা সুস্থ বোধ করলেন৷ কেক কাটলেন। কেক খাওয়ালেন। শিশুদের হাতে তুলে দিলেন চকলেট ও খেলনা।

জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতাল ততক্ষণে খবর রটে গিয়েছে মোটর বাইক চালিয়ে সান্তা এসেছে হাসপাতালে। তাকে দেখতে ছুটে এলেন পথচলতি মানুষজনও। সান্তা সাজা মানুষটির বাচনভঙ্গি আন্তরিকতা দেখে অনেকেই চিনে নিলেন, আরে এযে ভোলা মণ্ডল৷ জলপাইগুড়ি নয়াবস্তি পাড়ার বাসিন্দা। ডাক বিভাগের অবসর প্রাপ্ত কর্মী ভোলা মন্ডল। ১৯৭৪ সাল থেকে সান্তা সেজে বছরের নির্দিষ্ট এই দিনটিতে মানুষকে ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছা বিলিয়ে যাচ্ছেন।

এদিন সমাজ ও নদী বাঁচাও কমিটির সদস্যদের আবেদনে হঠাৎই হাসপাতালে গিয়ে হাজির হন ভোলা বাবু। বেশির ভাগ সময় কাটান শিশু বিভাগে৷ তাদের খেলনা ও চকলেট তুলে দেন তিনি। সান্তার হাত থেকে উপহার পেয়ে খুশি শিশুরাও।

ভোলাবাবু বলেন, ‘বাইবেলে একটা কথা বলা আছে। যে শিশুদের ভালোবাসে সে ঈশ্বরকে ভালোবাসে। সেই কারণেই আমি শিশুদের ভালোবাসি। ওদের কাছে ছুটে যাই।’

শুধু সান্তা ভোলাই নয়৷ জলপাইগুড়িতে সান্তা রাজুও গরীবের মুখে ভাত তুলে দিচ্ছেন৷ তিনি নিজের হাতে গরীব মানুষের পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন৷ দিন ভোর সান্তা ক্লজ সেজে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াছেন তিনি। কোন মোড়ে কিংবা কোন স্কুলের সামনে। কচি কাচা থেকে শুধু করে সকলের হাতে চকলেট বিলি করে চলেছেন।