সঞ্জয় সেন ৷ মোহনবাগানের আই লিগ জয়ী কোচ ৷ ময়দানে যখন বাঙালি কোচদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে৷ তখন বুক ফুলিয়ে কোচিং করাচ্ছেন চেতলার এই বাঙালিবাবু ৷ বাগানকে আই লিগ এনে দিলেন ৷ কীভাবে সম্ভব হল এই অসাধ্য সাধন? বাগানের সাফল্যের পিছনে কী রহস্য রয়েছে ? এই বিষয়ে KOLKATA 24X7.COM-র প্রতিনিধি তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোলাখুলি সাক্ষাৎকার দিলেন সবুজ-মেরুন কোচ ৷

তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় সিনিয়র রিপোর্টার kolkata24x7
তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
সিনিয়র রিপোর্টার kolkata24x7

কলকাতা ২৪x৭: আই লিগ জেতার জন্য অভিনন্দন ৷
সঞ্জয়: (হেসে) ধন্যবাদ ৷
কলকাতা ২৪x৭: বাঙালি কোচ হিসেবে মোহনবাগানের হয়ে আই লিগ জিতলেন ৷ কেমন অনুভূতি ?
সঞ্জয়: অসাধারণ অনূভূতি ৷ জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত ৷ বাঙালি কোচ হিসেবে মোহনবাগানের হয়ে আই লিগ জিতেছি ৷ এটা আমার কাছে আরও ভালো লাগার মুহূর্ত ৷
কলকাতা ২৪x৭:ময়দানে একটি প্রচলিত কথা আছে, ডার্বি না জিতলে নাকি কোচ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যায় না৷ বাগানের কোচ হিসেবে সেই ডার্বি আপনি জিতেছেন৷ একইসঙ্গে আই লিগ জিতেছেন৷ কোনটাকে এগিয়ে রাখছেন ?
সঞ্জয়: (বেশ উত্তেজিত) ডার্বি জয় আনন্দের ৷ কিন্তু আই লিগ জয় জীবনের সেরা পাওনা৷ সব সময় আই লিগ জয়কেই এগিয়ে রাখব ৷ তুমি ভাব না, ডার্বি জিতলাম কিন্তু আই লিগ জিততে পারলাম না ৷ তাহলে কেমন লাগবে ? ওই ডার্বি জয় ফিকে হয়ে যাবে না? যে সব কোচেরা মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে নিজেদের আবদ্ধ রাখে তাদের মধ্যে আমি পড়ি না৷ গত ১৩ বছর ধরে তো অনেক ডর্বি জেতা হয়েছে ৷ বাগানে কী আই লিগ এসেছে? বোয়া-কাটসুমিদের মতো বিদেশিরা আই লিগটাকেই বেশি প্রধান্য দেয় ৷ ওরা কী ডার্বি জেতার আবেগ বুঝবে ? বাঙালি ছেলেরা ডার্বি জেতার আবেগ যতটা বুঝবে৷ ততটা ওরা বুঝবে না৷ আমাদের মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের গণ্ডি থেকে বেরতে হবে ৷ তাহলেই সাফল্য আসবে ৷
কলকাতা ২৪x৭: মোহনবাগানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কি কোনও চাপে ছিলেন ?
সঞ্জয়: (হেসে) কী যে বল ৷ চাপে থাকব কেন ? আমি পারব এই বিশ্বাস ছিল বলেই তো বাগানের দায়িত্ব নিয়েছিলাম ৷ আমি কোনও কাজ করতে ভয় পায় না ৷ তাই বাগানের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনও টেনশন করেনি৷
কলকাতা ২৪x৭:আপনি সুভাষ ভৌমিকের ফেলে যাওয়া জুতোয় পা গলিয়েছেন ৷ সেই জন্যই বলছি বাড়তি চাপ ছিল না ?
সঞ্জয়: না না ৷ বললাম তো ৷ আমি ওই সব কোচেদের মধ্যে পড়ি না যারা সব সময় টেনশনে ভোগেন৷ তাই পারব কি, পারব না এটা ভেবে কাজ করি না৷ দায়িত্ব পেয়েছিলাম ৷ নিজের কাজ করে গিয়েছি৷
কলকাতা ২৪x৭:গোটা ভারতে যখন বাঙালি কোচদের দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে৷ তখন আপনি কি না বুক ফুলিয়ে কোচিং করাচ্ছেন ৷ আই লিগ জিতছেন ৷ আপনাকে দেখে এবার কি বাঙালি কোচেদের উৎসাহ বাড়বে ৷
সঞ্জয়: দেখ ৷ আমি কিন্তু খুব বড় কোচ নই ৷ যে আমাকে দেখে অন্য কোচেরা উৎসাহ পাবে ৷ তবে আমরাও পারি এই বিশ্বাস সকলের মধ্যেই আনতে হবে৷ ওরা (বিদেশি) যদি পারে তাহলে আমরা পারব না কেন ? আমার মনে হয় চেষ্টা করলে আমরাও ভালো ভাবে কোচিং করাতে পারব ৷
কলকাতা ২৪x৭: আই লিগ জেতার পরে কাদের অভিনন্দন পেয়েছেন ?
সঞ্জয়: আই লিগ জেতার পরে প্রচুর লোকের অভিনন্দন পেয়েছি ৷ সকলেই আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ৷
কলকাতা ২৪x৭:সুব্রত ভট্টচার্য বা সুভাষ ভৌমিকের অভিনন্দন পেয়েছেন ?
সঞ্জয়: ওইভাবে কারও নাম করতে চাই না৷
কলকাতা ২৪x৭: ময়দানে আপনাকে যতদূর দেখা গিয়েছে প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করেন না৷ মহমেডানকে আই লিগের মূল পর্বে তোলার পরে কোচিং ছেড়ে দিয়েছিলেন ৷ এবারও কী সেই ঘটনার পূনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে ?
সঞ্জয়: (বেশ উত্তেজিত গলায়) দেখ ভাই ৷ আমি আনপ্রেডিক্টেবল কোচ ৷ মোহনবাগানের কোচ নাও থাকতে পারি ৷ তোমরা ভালো করেই জানো ৷ আমি কোনও প্রচার পছন্দ করি না ৷ সব সময় পাস কাটিয়ে যাওয়া পছন্দ করি৷ তাই আমাকে নিয়ে কেউ আগাম মন্তব্য করতে পারবে না ৷ আমি এখনও মোহনবাগানের কোচ থাকব কি না সেটা বলা যাচ্ছে না ৷
কলকাতা ২৪x৭:মোহন কর্তাদের সঙ্গে কী আপনাদের কথা হয়েছে ?
সঞ্জয়: এখনও ফাইনাল কথা হয়নি৷ কর্তাদের কেউ কেউ বাইরে রয়েছেন ৷ তাই কোনও চূড়ান্ত হয়নি ৷ তাই তো বলছি পরের মরশুমে আমি বাগান কোচ থাকব কি না নিশ্চিত নয় ৷
কলকাতা ২৪x৭:এবার আই লিগ জয়ের প্রসঙ্গে আসি ৷
সঞ্জয়: বলুন ৷
কলকাতা ২৪x৭: বাগানের দায়িত্ব নেওয়ার পরে কী ভেবেছিলেন এই মোহনবাগান টিমটা আই লিগ জিততে পারে ?
সঞ্জয়: ফেডারেশন কাপের পরেই বুঝে গিয়েছিলাম বোয়া-কাটসুমিরা আই লিগ জিততে পারে৷ তারপর থেকেই আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি ৷ তার ফলও পেলাম হাতেনাতে৷
কলকাতা ২৪x৭: ফেডারেশন কাপে দলটা ব্যর্থ হয়েছিল কেন ?
সঞ্জয়: ওই সময় আমরা গোল করতে পারিনি৷ তাই ব্যর্থ হয়েছি ৷ গোল করতে পারলে ভালো পারফরম্যান্স করতাম৷
কলকাতা ২৪x৭:ভারত এফসির বিরুদ্ধে হাস্যকর গোলে হেরেছিলেন৷ আই লিগের ওই পর্বে পরপর হারছিলেন ৷ তখনও কী আই লিগ জয়ের আশা ছিল ?
সঞ্জয়: আমি জানতাম দল ঠিক ঘুরে দাঁড়াবে৷ আমরা নিজেরাই খারাপ খেলে চাপ তৈরি করেছিলাম৷ সেই চাপ কাটানোর দায়িত্ব ছিল আমাদেরই ৷ তাই বেশি টেনশন করিনি৷ আমার বিশ্বাস ছিল আমরা পারব৷
কলকাতা ২৪x৭:আর শেষ ম্যাচে বেঙ্গালুরুর কাছে যখন হারছিলেন ?
সঞ্জয়: একটা সময়ে একটু টেনশন হচ্ছিল ৷ তবে আমি কখনই আশাহত হয়নি ৷ জানতাম ছেলেরা গোল করবে ৷ সেটাই হয়েছে ৷
কলকাতা ২৪x৭:আপনার অতীত নিয়ে কিছু বলুন ?
সঞ্জয়: ১৯৮২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইস্টার্ন রেলে খেলেছি৷ রেলের বাইরে আর কোথাও খেলিনি৷ তারপর কোচিং শুরু ৷ চিরাগ-প্রয়াগ-মহামেডানের হয়ে কোচিং করিয়ে সাফল্য পেয়েছি ৷ তারপরই মোহনবাগানে ডাক পেলাম৷
কলকাতা ২৪x৭:এরপর ?
সঞ্জয়: (হেসে) এরপর আবার কী ? যারা ডাকবে তাদের হয়ে কোচিং করিয়ে যাব৷ ভারতের সব ক্লাবেই কোচিং করাতে চাই ৷ আমি বিশ্বাস আছে ৷ ওই বিশ্বাস দিয়েই সাফল্য পাব৷
কলকাতা ২৪x৭: সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য KOLKATA24X7.COM-র হয়ে ধন্যবাদ৷
সঞ্জয়: ধন্যবাদ আপনাকেও ৷