কলকাতা: তাঁর অসুস্থতার খবর চাউর হতেই বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন মোহন সমর্থকরা৷ তাদের প্রিয় সঞ্জয়দার অনুপস্থিতিতে দলের ভার কে নেবেন সেই কথা ভেবেই৷ তবে কলকাতা লিগের পর একটা জিনিস পরিস্কার সঞ্জয় সেনকে মোহবাগানের এখনও দরকার৷ তাই বাইপাস সার্জারির পর ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে সঞ্জয় চলে এলেন বাগান তাবুতে৷

আরও পড়ুন: মারাদোনার সফর ঘিরে আবার কালো মেঘ

৫ সেপ্টেম্বরের হঠাত্ই অসুস্থ হয়ে পড়েন বাগানের হেডস্যার৷ তাঁর তিনটি আর্টারিতে ৮০ শতাংশেরও বেশি ব্লকেজ পাওয়া গিয়েছিল৷ তাই বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসকদের কাছে বিকল্প কোনও পথ খোলা ছিল না৷ বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালেই সার্জারি করা তাঁর৷ সার্জারি হওয়ার পর কবে তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন সেটা জেনেই শঙ্করলাল চক্রবর্তীর হাতে বাড়তি দায়িত্ব তুলে দেয় বাগান কর্তারা৷ সেই দায়িত্ব ভালো ভাবেই পালন করেছেন শঙ্করলাল৷ কিন্তু আই লিগের জন্য কর্তারা কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নন৷ সেই জন্য আই লিগে সঞ্জয়কেই দায়িত্ব সঁপে দিতে চান তারা৷ এদিন বাগান তাবুতে সঞ্জয় আসার পরই কিছুটা ‘ফিল গুড’ হাওয়া৷

আরও পড়ুন: বাইশ গজে ‘রেড কার্ড’-কে স্বাগত সৌরভের

মোহন বাগানের দায়িত্ব নিয়ে ২০১৪-১৫ মরশুমে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন করেছেন চেতলার এই বঙ্গসন্তান৷ সবুজ-মেরুণ ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কটাও দীর্ঘদিনের৷ আসুস্থ হওয়ার আগে কলকাতা লিগের দায়িত্বে না থাকলেও মেন্টরের ভূমিকায় বারেবারে দেখা গেছে সঞ্জয় সেনকে৷ ঘরোয়া লিগে কামো ক্রোমাদের দায়িত্ব শংকরলালের হাতে থাকলেও মাঠে এসে ফুটবলারদের চার্জ আপ করে গেছেন তিনি৷

আরও পড়ুন: দুয়ারে বিশ্বকাপ, আর মাত্র ৭ দিন

এদিকে মোহনবাগানের এশিয়া কোটার দুই বিদেশি দিয়েগো ফেরেইরা ও ইউতা কিনওয়াকি চলে এসেছেন কলকাতায়৷ ২০১৭-১৮ মরশুমের জন্য দলবদল নিয়ে কিছুটা চিন্তায় ছিলেন বাগান সমর্থকরা৷ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল তাড়াতাড়ি দলবদলে নেমে তুলে নিয়েছিলেন বেশ কিছু ফুটবলারকে৷ তখন মোহনবাগানের অর্থ-সচিব দেবাশিস দত্ত বলেছিলেন, ‘সমর্থকদের কোনও চিন্তা নেই আমরা ভালো দল বানাবো’৷ সেই কথা রেখেছেন বাগানের অর্থ সচিব৷

আরও পড়ুন: বাগানে নতুন জাপানি,সামনের সপ্তাহে সই করছেন সনি

ইউতা ভারতে আসার আগে খেলে এসেছেন পোল্যান্ড এবং লাটভিয়ায়৷ গত বছর আই লিগে শিলংয়ের হয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি৷ ব্রাজিল জাত অস্ট্রেলীয় দিয়েগো ফেরেইরাকে সই করালেও তিনি এদেশের পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত নন৷ সে জন্যই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে এশীয় কোটায় দ্বিতীয় বিদেশি হিসাবে এ দেশে খেলা ফুটবলারের খোঁজে ছিলেন সবুজ-মেরুন কর্তারা৷ গত বার আই লিগে শিলংয়ের জার্সিতে ইউতার খেলা ভাল লেগেছিল মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেনেরও৷ আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডিপান্ডা ডিকার বেশিরভাগ গোলের পিছনে ছিল ইউটার অবদান৷ ডিপান্ডার সঙ্গে ইতিমধ্যেই চুক্তি করেছে মোহনবাগান৷ তাঁর সাপ্লাই লাইনকেও তাই নিয়ে এসেছেন কর্তারা৷ তাঁরা আশাবাদী আই লিগে এই জুটি সাফল্য আনবে ক্লাবে৷