সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ওঁদের উদ্দেশ্য মানুষ। মানুষের পাশে থাকা। সেই উদ্দেশ্যেই মহালয়ার পুন্যলগ্নে হল মায়ের চক্ষুদান। আর সেই চোখই ঘুরে ঘুরে এবার থেকে করবে স্যানিটাইজেশনের কাজ। হ্যাঁ, ঠিক এই দৃশ্যটাই দেখা গেল টালা পার্ক প্রত্যয়ের পুজো প্রাঙ্গনে।

দোলের সময়েতেই তাঁদের ঢাকে কাঠি পরে গিয়েছিল। তখন করোনার কথা অল্প অল্প জানছিল মানুষ। কেউই ভাবেননি এত দুরুহ সময় আসতে চলেছে। মাস ছয়েকে অনেক ঝড় বয়ে গেছে এই শহরের উপর দিয়ে। সুপার সাইক্লোন তো ছিলই, করোনার ঝড় তো এখনও চলছে। মাস ছয় সাত আগে কোনও ক্লাবই ভাবেনি এবারের পুজো সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে করতে হবে। সময় যত এগিয়েছে বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাঙালির অভিধানে নয়া শব্দ সোশ্যাল এবং ফিজিক্যাল ডিস্টেন্স রক্ষা। মাস্কের আবশ্যিকতা এবং স্যানিটাইজেশন।

আগে কতজন বাঙালির হাতে ঘুরত স্যানিটাইজর এর বোতল। এখন থাকছে। পারলে মাঝে মাঝে বাড়ি স্যানিটাইজ করলেও ভালোই হয়। ঠিক এই ভাবনা থেকেই মহালয়ার দিনে এমন একটি স্যানিটাইজেশন করার গাড়ির উদ্বোধন করল টালা পার্ক প্রত্যয়। আর সঙ্গে রাখলেন মা’য়ের চোখ। যা দান করলেন শিল্পী নিজের হাতে। ওই গাড়ির সামনেই রইল সেই চোখ।

ক্লাবের জনসংযোগ আধিকারিক আভিজিৎ বসাক বলেন, ‘করোনা আবহে মানুষের জীবন জীবিকা বদলে গিয়েছে। অনেক মানুষ এমনও আছেন যারা জীবিকার হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আমাদের এবারের লক্ষ্য লোকাহিত অর্থাৎ মানুষের জন্য যা কিছু তাই। সেই ভাবনা নিয়েই হবে আমাদের পুজো এবং পুজোর পাশাপাশি মানুষের পাশে থাকার কাজ। যাদের সত্যিই সাহায্যের প্রয়োজন তাঁদের পাশে দাঁড়াবে টালা পার্ক প্রত্যয়।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একইভাবে আমরা এই মহালয়ার দিনে স্যানিটাইজিং গাড়ি চালু করলাম, যা এখন থেকে সারা বছর কাজ করবে। কখনও স্বল্প ব্যায়ে, ক্ষেত্রে বিশেষে আমরা পুরোপুরি বিনামূল্যে এই কাজ করা হবে। ওই গাড়ির সামনেই রইল মায়ের চোখ যা আঁকলেন শিল্পী সুশান্ত পাল নিজেই।’

এদিকে বাংলায় টানা কয়েকদিন ধরে ফের দৈনিক সংক্রমণ ৩ হাজার পার করেছে। বুধবার পর্যন্ত বাংলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ১২ হাজার ৩৮৩। বাংলায় করোনায় অ্যাক্টিভ কেস ২৪ হাজার ১৪৭টি। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন সূত্রে এ তথ্য জানা গিয়েছে। বুধবার জানানো হয় বাংলায় করোনা-মুক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭১ জন। সবমিলিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ১১৩ জন। রাজ্যে সুস্থতার হার বেড়ে হল ৮৬.৬৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য়ে আরও ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে করোনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৪১২৩।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।