নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: ফের সন্দেশখালিকাণ্ডে গ্রেফতার এক৷ তৃণমূল নেতা কায়ুম মোল্লা খুনে এবার গ্রেফতার করা হল এক বিজেপি নেতাকে৷ জানা যায়, দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃমমূল এবং বিজেপির মধ্যে বচসা-হাতাহাতি শুরু হয়, যা শেষে প্রাণ কেড়ে নেয় একাধিকের৷

এর মধ্যে যেমন এক তৃণমূল কর্মীর নাম রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিজেপি কর্মীর নামও৷ এর আগেই কয়েকজনকে সন্দেশখালি ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে৷ আর এবার তৃণমূল নেতা কায়ুম মোল্লা খুনে গ্রেফতার করা হল বিজেপিরই এক নেতাকে৷

গত শনিবার ভাঙ্গিপাড়ায় বিজেপির দুই কর্মী খুনে গ্রেফতার চার জন৷ তবে অধরা মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান৷ ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে৷

পড়ুন: রাজ্যে বিরোধীতা চললেও জাতীয় স্বার্থে তৃণমূলে ‘নরম’ অধীর

ধৃত আখের আলি গায়েন, জাবেদ আলি মোল্লা, মইনুদ্দিন মোল্লা, মইউদ্দিন মোল্ল৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চারজনই হাটগাছি অঞ্চলের নলকোড়া শেখপাড়ার এক মাছের ভেড়ির আলায় লুকিয়ে ছিল৷ খবর পেয়ে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ৷

এক সপ্তাহ আগেই ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সন্দেশখালির ভাঙ্গিপাড়া৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ এই সংঘর্ষেই নিহত হন প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডল৷ নিহত দু’জনেই বিজেপির সক্রিয় কর্মী বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের৷

এই হত্যার পিছনে রয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান, দাবি করে বিজেপি৷ অভিযোগ উড়িয়ে, তৃণমূলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি পালটা পদ্ম শিবিরকে নিশানা করেন৷ বৈঠক শেষে মিছিল বের করেছিল তৃণমূল। দাবি, ‘‘মিছিলে হামলা চালিয়ে তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লাকে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়।’’

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে এ রাজ্যে আইনের শাসন ব্যর্থ হয়েছে বলে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মত। লোকসভা নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরেও বাংলায় একের পর এক হিংসার ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মোদী সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে রবিবার কড়া ভাষায় ‘অ্যাডভাইসরি নোট’ পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের তরফে মুখ্যসচিব সেদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জবাবি চিঠিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও, পরিস্থিতি সামালে নেওয়া গিয়েছে৷ তবে রাজ্যপালের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব৷