নয়াদিল্লি: তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে উত্তাল সন্দেশখালি৷ নিহত উভয় তরফের চার কর্মী৷ যা ঘিরে তপ্ত রাজ্য রাজনীতি৷ স্বরাষ্ট মন্ত্রকের তরফে সন্দেশখালির ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের কাছ থেকে৷ একে অপরকে দুষছে যুযুধান তৃণমূল ও বিজেপি৷ এই অবস্থায় দিল্লি গেলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি৷ তাঁর এই সফর যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করা হচ্ছে৷

ফ্ল্যাগ খোলাকে কেন্দ্র করে বিবাদ৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির হাটগাছিতে৷ ভয়ঙ্কর হয়ে ওটে পরিস্থিতি৷ সংঘর্ষে নিহত হন তৃণমূল কর্মী কায়ুম মোল্লা। উদ্ধার হয় প্রদীপ মণ্ডল, তপন মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলের দেহ৷ যাদের নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে গেরুয়া শিবির৷ উভয়পক্ষেরই দাবি তাদের বহু কর্মী সংঘর্ষের জেরে নিখোঁজ৷

আরও পড়ুন: সন্দেশখালির ঘটনার প্রতিবাদে বাঁকুড়ায় বিক্ষোভ বিজেপির

এই ঘটনার জন্য বিজেপি নেতা মুকুল রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন৷ তৃণমূলের তরফে রাজ্যের অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিজেপিকে নিশানা করা হয়৷ অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মাঝেই সন্দেশখালির পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের দাবিকরা হয়৷

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতেই অমিত শাহের হাতে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্র দফতরের থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সন্দেশখালি নিয়ে৷ উল্লেখ্য, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং৷ বিষয়টিকে রাজ্য সরকারের উপর চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে৷ রবিবারই সন্দেশখালি যাচ্ছেন বিজেপির সংসদীয় দলের প্রতিনিধি দল৷ জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷

আরও পড়ুন: জাকিরের বিরুদ্ধে রেড কর্ণার নোটিশ জারি করতে চলেছে ED

উত্তপ্ত সন্দেশখালি৷ এই অবস্থায় রাজ্যপালের থেকে সেখানকার পরিস্থিতি জানতে চাইতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ দিল্লি উড়ে গিয়েছেন রাজ্যপাল ত্রিপাঠি৷ সেখানে প্রশাসনিক একটি বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি৷ সীত্রের খবর, আগামীকাল তাঁর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর৷ সেখানে উঠে আসতে পারে সন্দেশখালি ও বাংলার আইন-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ৷ রাজ্যপাল সন্দেশখালি প্রসঙ্গে কী বলেন সেদিকে জোড়াফুল শিবির নজর রেখেছে৷ কেন্দ্র রাজ্য উষ্ণ সম্পর্কের মাঝে যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে৷

এর আগে নানা প্রসঙ্গে রাজ্যের পদক্ষেপের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন রাজ্যপাল৷ এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে না বলেই ইঙ্গিত৷ ফলে সন্দেশখালি নিয়ে তৃণমূল বিজেপি তরজায় মাত্রা যোগ করতে পারে কেশরীনাথ ত্রিপাঠির মন্তব্য৷