নয়াদিল্লি: খারাপ সময় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের। গত দেড় বছরে খারাপ পারফরম্যান্সের জের। যে কারণে তিনটি ফর্ম্যাটেই এই মুহূর্তে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে রয়েছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত এবার ম্যাচ ফিক্সিং কান্ডে অভিযুক্ত হলেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক সনথ জয়সূর্য। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার কোড অফ কন্ডাক্টে ২.৪.৬ এবং ২.৪.৭ দুটি ধারায় চুক্তি লঙ্ঘন করেছেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।

দেশের ক্রিকেট দুর্নীতিতে তদন্তের স্বার্থে জাতীয় দলের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি চেয়ে পাঠায় আইসিসি’র শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার সঙ্গে এবিষয়ে কোনও সহযোগীতাই করেননি শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন এই দাপুটে ওপেনার। চেয়ে পাঠানো কোনও তথ্য বা নথি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিকে পাঠাতে ব্যর্থ হন জয়সূর্য।

প্রাক্তন বিশ্বজয়ী দলের এই সদস্যের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি আরও মারাত্মক। এক্ষেত্রে তথ্য গোপন করা, তথ্য বিকৃত করা এবং তথ্য চুরির মত সমস্ত অভিযোগই আরোপ করা হয়েছে জয়সূর্য’র উপর। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস তদন্তের স্বার্থে চাওয়া হলে তিনি বেমালুম তা লোপাট করে দেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির হাতে ওই ডিভাইস তুলে দিতে অস্বীকার করেন তিনি।

২০১৭ জুলাইতে দেশের মাটিতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ২-৩ ব্যবধানে ওয়ান ডে সিরিজে পরাজিত হয় শ্রীলঙ্কা। ফলাফলের দিকে নজর রেখে আইসিসি’র আধিকারিকেরা সিরিজে দুর্নীতি এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে নজরে উঠে আসে হাম্বানতোতায় অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ম্যাচটি। শুরু হয় তদন্ত। তদানীন্তন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য নির্বাচক পদে আসীন ছিলেন সনথ জয়সূর্য। সুতরাং তদন্ত থেকে রেহাই পাননি তিনিও।

আইসিসি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে জানিয়েছিলেন, ‘দেশের ক্রিকেটে দুর্নীতি এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মত গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে আইসিসি।’ সেই তদন্তের ফলাফল হিসেবেই দেশের ক্রিকেট দুর্নীতিতে দেশেরই এক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের নাম জড়াল বলে মনে করছে সেদেশের ক্রিকেটমহল।