নিউজডেস্ক, কলকাতা: রাতের কলকাতায় ট্রাফিক আইন না মেনে বাইক চালান এরকম লোকের সংখ্যাটা কম নয়৷ আর রাত কেন সুযোগ পেলেও দিনের বেলাতেও ট্রাফিক আইন ভাঙতে ছাড়ি না আমরা৷

ট্রাফিকে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারটি দেখছে না অতএব হুস করে অনেকেই বেরিয়ে যান মোটরবাইক নিয়ে৷ চিংড়িঘাটার ২৯ বছরের সমীরণ মণ্ডলও ট্রাফিক আইন ভাঙেন৷ বলা ভালো ভাঙতে বাধ্য বন তবে নিছক উত্তেজনার বশে নয়৷ সমীরণকে ট্রাফিক আইন ভাঙতে হয় চাকরি বাঁচাতে৷ জীবন যুদ্ধে লড়াইয়ে টিকে থাকতে৷

জন্ম থেকেই ডানহাতে একটিও আঙুল নেই সমীরণের৷ কাজ করেন সুইগি নামের এক ফুড ডেলিভারি সংস্থায়৷ বাইক চালিয়েই লোকের বাড়িতে খাবার ডেলিভারি করেন তিনি। হাতের অসুবিধার জন্য বেশিক্ষণ বাইকের এক্সসেলেটরে হাত রেখে কাজ করতে পারেন না৷ মাঝে মাঝে ফাঁকা রাস্তা দেখ এক হাত ছেড়েই বাইক চালাতে হয় সমীরণকে৷ তবে সুবিধার জন্য বাইকের এক্সেলেটরটিকে কিছুটা মডিফাই করে হাত রাখার মতো বানিয়ে নিয়েছেন সমীরণ৷ যাতে করে রাস্তায় বাইকের গতির নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন৷

কিন্তু এতো কাজ থাকতেও কলকাতার ব্যস্ত রাস্তায় বাইক নিয়ে ফুড ডেলিভারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কেন করেন সমীরণ? তিনি জানান, অন্য কাজ পাওয়া সহজ নয়৷ আগে বাড়িতে একটা ছোট জেরক্স মেশিনের ব্যবসা ছিল৷ সেটা ঠিক মতো চলে না৷ তাই সুইগির কাজটাই করি৷’’

সম্প্রতি এরকমই কলকাতার রাস্তায় ফুড ডেলিভারি করে ফেরার সময় একহাতে বাইক চালাতে দেখে কলকাতা পুলিশের এক কর্মী সমীরণের মোটরবাইক আটকান৷ হয়ত আইন মেনে কেসও দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন৷ তবে সমীরণের ডানহাতের আঙুলগুলোর অবস্থা দেখে ও তার লড়াইয়ের গল্প শুনে তাকে ছেড়ে দেন ওই পুলিশ কর্মী৷

পরে কলকাতা২৪x৭-কে ওই পুলিশ কর্মী ওয়াসিম বারি বলেন, ‘মানবিকতার কারণেই কেস দেওয়া হয়নি ওকে৷ আমরা যারা ট্রাফিকে ডিউটিতে থাকি আমাদের কাজ বিনা হেলমেটে বেপরোয়া গাড়ি চালানো আটকানো৷ সেখানে একজন ছেলে যার হাতের আঙুল নেই তাও মাঝ রাতে বাইক চালিয়ে লোকের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়ে দুটো টাকা আয় করছে তাকে কেস দিয়ে কী বীরত্বটা দেখাতাম? ও লড়াই প্রশংসাযোগ্য৷’’