মুম্বই- টেলিভিশন অভিনেতা সমীর শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর মালাডের বাড়ি থেকে। বুধবার রাতে বাড়ির রান্নাঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৪ বছরের অভিনেতার ঝুলন্ত দেহ। মালাড পুলিশ জানাচ্ছে সমীর আত্মঘাতী হয়েছেন।

সমীরের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে জানা যায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি সুশান্ত সিং রাজপুত এবং মেন্টাল হেলথ নিয়ে একটি বড় পোস্ট করেছিলেন। দু’সপ্তাহ আগে অর্থাৎ তখনও মনে করা হচ্ছিল সুশান্ত সত্যি অবসাদে ভুগছিলেন। সংবাদ মাধ্যমগুলি প্রকাশিত হচ্ছিল সে অবসাদে ভোগে এবং বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন সুশান্ত।

তখনো সুশান্তের বাবাকে কেসিং রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি আনেননি। তাই মনোবিদদের কথামতো ধরে নেওয়া হয়েছিল অবসাদে ভোগে এই পদক্ষেপ করেছেন সুশান্ত। আর সেজন্যই সমীর একটি পোস্ট করেছিলেন মেন্টাল হেলথ নিয়ে। লিখেছিলেন যিনি অবসাদগ্রস্ত একমাত্র তিনিই বুঝতে পারেন ঠিক কী কী হয়।

সমীর লিখেছিলেন, “যেহেতু চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন সুশান্ত বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন তাই মেন্টাল হেলথ নিয়ে কথা বলছি। বাইপোলার ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেশন, সিজোফ্রেনিয়া, ইত্যাদি বিষয়গুলো কি আপনারা কি বোঝেন? আপনারা বোঝেন না যতক্ষণ না জিনিস গুলো আপনাদের সঙ্গে হয়। আজাদের সঙ্গে এগুলো হয় না তারা কখনোই বুঝতে পারবে না এগুলি হলে কেমন লাগে।”

ডিপ্রেশন সম্পর্কে সমীর লিখেছেন, “ডিপ্রেশন খুব একাকীত্ব ভরা একটা রোগ আর সবাই এখানে ভুল বোঝে। এই রোগে খুব একা লাগে কারণ আপনার আশপাশের মানুষরাও বুঝতেই পারে না যে আপনার মধ্যে কী চলছে।” যারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তাদেরকে সাধারন মানুষ অনেক সময় দুর্বল, শোক সাইকো বলে দাবি করেন।

সুশান্ত সম্পর্কে সমীর লিখছেন, “ও অনেক লড়াই করেছে। অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছে যে নিজের জীবনকে শেষ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাইনি। আর সেটার জন্য অনেক শক্তি লাগে। এক মুহূর্তের জন্য ভাববেন না ও ভয় পেয়েছিল। আর আমি শুধু সুশান্তের কথা বলছি না এখানে।”

এই পোস্ট থেকেই অনেকে আন্দাজ করছেন সমীর অবসাদে ভুগছিলেন। তাই অবসাদে ভোগে মানুষের সম্পর্কে এত স্পষ্ট করে কথা বলতে পারছিলেন।

তিনি লিখেছেন, “ক্যান্সার রোগী ও অবসাদে ভোগে রোগীর মধ্যে ক্যান্সার রোগীকে দেখে আপনাদের কষ্ট হবে। কিন্তু আমি অবসাদগ্রস্থ মানুষটাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরবো কারণ কেউ তার কষ্ট বুঝে না কারণ আমরা এখনো জানি না এবং বুঝতে চাই না মেন্টাল হেলথ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”

মেন্টাল হেলথ সম্পর্কে এখনো সমাজে মানুষ কিভাবে সচেতন নয়। মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে এখনও সেটা নিয়ে কথা বলতে মানুষ সংকোচ বোধ করেন। এই ধরনের ধারণা থেকে বেরোতে বলেছিলেন সমীর এই পোস্টে। আর তার ঠিক দু সপ্তাহ পরেই নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

মালাড পুলিশ জানিয়েছে, মালাডের এই ফ্ল্যাট তিনি ফেব্রুয়ারিতে ভাড়া নিয়েছিলেন। বুধবার রাতে একজন কর্মরত ওয়াচম্যান সমীরের ঝুলন্ত দেহ প্রথম দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে আবাসনের অন্যদের তিনি জানান। মালাড পুলিশ দাবি করেছে আত্মঘাতী হয়েছেন সমীর।

তবে তাঁর দেহ দেখে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান যে দুদিন আগেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, সমীর শর্মা ইয়ে রিশতা কেয়া হ্যায় পেয়ার কা ছাড়াও কাহানি ঘর ঘর কি, এবং কিউ কি সাঁস ভি কভি বহু থি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও