নয়াদিল্লি: সমাজবাদী পার্টি নেতাকে গুলি করে খুন৷ অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা শুক্রবার দুপুরে গ্রেটার নয়ডার দাদরি এলাকায় নিজের বাড়ির সামনেই গুলিবিদ্ধ হন সমাজবাদী পার্টির ওই নেতা৷

সপা নেতা রামতেক কাটারিয়া দলের দাদরি বিধানসভা এলাকার সভাপতি ছিলেন৷ রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই খুন বলে প্রাথমিক সন্দেহ পুলিশের৷ পুলিশ সূত্রে খবর দাদরির ঝারছা রোডে তাঁর বাসভবনের সামনে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তাঁকে গুলি করা হয়৷ চারজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী একটি গাড়ি করে তাঁর বাসভবনের সামনে আসে৷

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি প্রায় পাঁচটি গুলি করা হয় ওই নেতাকে লক্ষ্য করে৷ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি৷ দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়৷ কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷

আরও পড়ুন: জয় শ্রীরাম ঠেকাতে জয় হিন্দ বাহিনীর মাথায় মমতার কার্তিক-গণেশ

গৌতম বুদ্ধ নগরের এসএসপি বৈভব কৃষ্ণা জানান, হয় রাজনৈতির উদ্দেশ্যে নয়তো পারিবারিক শত্রুতার জেরে তাঁকে খুন করা হয়েছে৷ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে৷ তাঁর কোনও শত্রু ছিল কীনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

রামতেক কাটারিয়া ও তাঁর ভাইয়ের মধ্যে বিবাদ ছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ৷ সেই সূত্র ধরেই এই খুন কিনা, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷ তবে তদন্ত সূত্রে খবর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই খুন করা হয়নি৷ ইতিমধ্যেই মৃত নেতার পরিবারের তরফ থেকে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে৷ তদন্ত শুরু হয়েছে৷

এদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে রামতেক কাটারিয়ার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়৷ একটি খুনের মামলায় জড়িয়ে পড়ে সে৷ তবে রামতেকের বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণ করা যায়নি৷

আরও পড়ুন : বিজেপির কার্যকর্তার বাড়িতে বেআইনি অস্ত্র কারখানা, গ্রেফতার তিন

এদিকে, মে মাসের প্রথম দিকে বরৌলি বিধানসভা কেন্দ্রের সমাজবাদী পার্টির নেতা রাকেশ যাদবকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটে৷ ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ কর্তারা জানান বাইকে করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা৷ গুলি করার পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷রাত ১০টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে৷ আলিগড়ের সমাজবাদী পার্টির এই নেতার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে৷

এই ঘটনার জঙ্গে জড়িত হামলাকারীদের কোনও পরিচয় এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি৷ গুলি চলার আওয়াজ শুনে এলাকাবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ এই নেতাকে মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখে চমকে যায়৷ স্থানীয়রা এই ঘটনার খবর দেন পুলিশকে৷ খবর পেয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷

ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷ অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করে৷ যে ভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে অভিযুক্তরা তা দেখে পুলিশের অনুমান, অনেক দিন ধরে এই হত্যার ছক কষেছিল অভিযুক্তরা৷