লন্ডন: ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে হেরে অ্যাশেজ হাতছাড়া হয়েছে আগেই। তবে মাথায় রয়েছে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিষয়টি। তাছাড়া ২০০১ পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ হারেনি ইংল্যান্ড। তাই ওভালে নির্ণায়ক টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই লক্ষ্যে অন্তিম টেস্টে চূড়ান্ত একাদশে জোড়া পরিবর্তন আনল ইংরেজ থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক।

জেসন রয় ও ক্রেগ ওভার্টনের পরিবর্তে ওভাল টেস্টের জন্য ইংরেজ স্কোয়াডে এলেন স্যাম কারেন ও ক্রিস ওকস। পাশাপাশি অ্যাশেজ নিজেদের হেফাজতে রেখে দেওয়ার পর শেষ টেস্ট জিতে অ্যাশেজ জিততে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া শিবিরেও আনা হল একটি পরিবর্তন। ট্রেভিস হেডের পরিবর্তে ১২ সদস্যের স্কোয়াডে এলেন অল-রাউন্ডার মিচেল মার্শ।

অন্তিম টেস্টে মিচেল মার্শের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে অজি অধিনায়ক টিম পেইন জানিয়েছেন, ‘শেষ টেস্টে একজন অতিরিক্ত বোলারকে খেলাতে চাইছি আমরা। সে কারণেই ট্রেভিসকে ওভাল টেস্টে বাইরে রাখছি আমরা।’ অজি অধিনায়ক আরও বলেন, ‘শেষ টেস্টের কম্বিনেশন গড়তে গিয়ে দুর্ভাগ্যবশত ট্রেভিসকে বাইরে রাখতে হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই হতাশ ও। নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে দেশের প্রথম সারির ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যানের মধ্যে অন্যতম ট্রেভিস।’

তবে ইংল্যান্ড স্কোয়াড থেকে জেসন রয়ের বাদ পড়াটা খানিকটা প্রত্যাশিতই। চলতি অ্যাশেজে ৮ ইনিংসে ইংরেজ ওপেনিং ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ মাত্র ১১০ রান। সর্বোচ্চ ৩১। শেষদিকে ব্যাটিং অর্ডারে তাঁকে নামিয়ে আনা হলেও রয়ের পারফরম্যান্সে বিশেষ কিছু বদল ঘটেনি। তাই দলের এই ওপেনিং ব্যাটসম্যানকে নিয়ে বলতে গিয়ে দলনায়ক রুট জানিয়েছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য জেসনের কাছে দুর্দান্ত একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু ওর থেকে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ও। তবে আমি নিশ্চিত কঠোর পরিশ্রম করে আগামিদিনে ও নিজেকে প্রমাণ করবে।’

পাশাপাশি ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে কাঁধে হালকা চোট পাওয়ায় শেষ টেস্টে বল হাতে নিয়মিত বোলিং করতে পারবেন না অল-রাউন্ডার বেন স্টোকস। তাই কেবলমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে অন্তিম টেস্টে বিশ্বজয়ের নায়ককে দলে রাখতে চাইছে ইংরেজ থিঙ্কট্যাঙ্ক। এপ্রসঙ্গে দলনায়ক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ‘কয়েক ওভার অনিয়মিতভাবে বল করতে পারলেও ওর ব্যাটিং চলতি সিরিজে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তাই শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে ওর সুযোগ প্রাপ্য।’

ওভাল টেস্টের জন্য ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড: ডেভিড ওয়ার্নার, মার্কাস হ্যারিস, মার্নাস ল্যাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল মার্শ, ম্যাথু ওয়েড, টিম পেইন (অধিনায়ক/ উইকেটরক্ষক), প্যাট কামিন্স, পিটার সিডল, মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন ও জোশ হ্যাজেলউড।

ইংল্যান্ড একাদশ: জো রুট (অধিনায়ক), জনি বেয়ারস্টো (উইকেটরক্ষক), জোফ্রা আর্চার, স্টুয়ার্ট ব্রড, রোরি বার্নস, জোস বাটলার, স্যাম কারেন, জো ড্যানলি, জ্যাক লিচ, বেন স্টোকস ও ক্রিস ওকস।