ভোপাল: পুরকর্মীদের ব্যাট দিয়ে পেটানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বিধায়ক। আদালত জামিন মঞ্জুর করা তো দুরের কথা জামিনের আবেদন টুকুও শোনার প্রয়োজন মনে করেনি। যদিও বিধায়ক তথা নেতার কাজের মধ্যে কোনও ভুল দেখছে না দলীয় কর্মীরা। জেলে যেতেই তাঁর সম্মানে পোস্টার লাগান হল এলাকায়।

আরও পড়ুন- ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের পুকুর বুজিয়ে অবৈধ নির্মাণ, অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক

আলোচিত ব্যক্তির নাম আকাশ বিজয়বর্গীয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে আকাশ পুরকর্মীদের ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে তাড়া করে কয়েক ঘা মেরেছিলেন। বুধবার ইন্দোরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বিতর্ক ছড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশের রাজনীতিতে। বিজয়বর্গীয় মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বিধায়ক৷ এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়৷ পরে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে৷

আরও পড়ুন- অভিযোগে আমল দেননি অভিষেক, অভিমানে পদত্যাগ তৃণমূলের উপ পুরপ্রধানের

বুধবারের সেই ঘটনার পরে শুক্রবারে দেখা গেল নতুন চিত্র। শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে ছেয়ে গিয়েছে বিধায়ক আকাশের ছবি সম্বলিত পোস্টার। যেখানে লেখা রয়েছে, “স্যালুট আকাশ জি।” পাশেই বিজেপির দলীয় পতাকা রয়েছে। পোস্টারের নিচে কিছু লেখা না থাকলেও দল যে বিধায়কের পাশেই আছে তা বুঝতে সমস্যা হয় না। যদিও বিষয়টি নজরে আসতেই পোস্টারগুলি সরিয়ে ফেলে পুরসভা।

আরও পড়ুন- কাটমানি বিতর্কের মাঝেই মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ খেয়ে অসুস্থ জেলা পরিষদের সভাধিপতি

সূত্রের খবর গত বুধবার ইন্দোরে জবরদখল উচ্ছেদ করতে গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা। প্রবল বচসার মাঝে ব্যাট নিয়ে তাড়া করেন কৈলাস বিজয়বর্গীর বিধায়ক পুত্র। আকাশের সঙ্গে যোগ দেন তার অনুগামীরা। পুলিস বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও রক্ষা হয়নি। ব্যাট হাতে তুলকালাম কাণ্ড করেন কৈলাস পুত্র আকাশ বিজয়বর্গীয়।

এমনকি, সাংবাদিকদের সামনেই তেড়ে যান পুরকর্মীদের দিকে। মার খান পুরকর্মীরা। এক পুরকর্মীকে টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য তার পিছনে ধাওয়া করা হয়। পুরকর্মীদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেন আকাশ। কোনওক্রমে তাদের হাত থেকে পুরকর্মীদের বাঁচায় পুলিস।

এদিকে, আকাশের হয়ে সাফাই দেন মধ্যপ্রেদশের বিজেপি নেতা হিতেশ বাজপেয়ী। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, উচ্ছেদ করতে এসে ওইসব পুরকর্মীরা ঘুষ চেয়েছিলেন। “আপনারা পুরকর্মীদের মারধরের জন্য আকাশকে জেলে পুরতে পারেন। কিন্তু ওইসব ঘুষখোর পুরকর্মীদের কী হবে?”