কলকাতাঃ  বাংলাদেশ থেকে গত কয়েকদিন শহরে আসেন বাংলাদেশের অল রাউন্ডার শাকিব-আল-হাসান। শহরের একটি কালীপুজোর উদ্বোধনে আসে সে। কিন্তু কালীপূজোর উদ্বোধন করার ফল যে এত ভয়ানক হবে তা কল্পনাতেও ভাবতে পারেননি হয়তো সাকিব।

ফেসবুক লাইভে একেবারে সরাসরি শাকিবকে হুমকি। প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে শাকিবকে কেটে ফেলার হুমকি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে যায় সেজন্যে ক্ষমাও চাইতে হবে বাংলাদেশের জনপ্রিয় এই ক্রিকেটার।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশের মানুষের মুখোমুখি হয়ে শাকিব বলেন, তিনি যদি জনতার ভাবাবেগকে আঘাত দিয়ে থাকেন, তাহলে তার জন্য তিনি দুঃখিত। “আমি নিজেকে গর্বিত মুসলমান মনে করি। ভুলত্রুটি হবেই। তা নিয়েই চলতে হবে। আমি কোনও ভুল করে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাইছি,” ভিডিও বার্তায় বলে দেন শাকিব। শুধু তাই নয়। বাংলাদেশ অলরাউন্ডার এও বলেন যে, পরেশ পালের কালীপুজোয় তিনি উপস্থিত থাকলেও পুজো উদ্বোধন করেননি বলে দাবি শাকিবের।

এই প্রসঙ্গে ওখানকার আমন্ত্রণপত্র দেখার কথা বলেন শাকিব। আর তা দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে দাবি শাকিবের। তিনি বলেন, ‘উদ্বোধন হয়েছে আমি যাওয়ার আগে। যেখানে অনুষ্ঠানটা হয়, সেটা অবশ্যই পূজামণ্ডপ ছিল না। পাশে আর একটা স্টেজ করা ছিল। সেখানে ছিলাম আমি। আর সেখানে ধর্ম-বর্ণ নিয়ে কোনও কথা হয়নি। বেরিয়ে যাওয়ার সময় অনেক রাস্তা বন্ধ ছিল।

পূজামণ্ডপ পাশেই ছিল একেবারে। খুব স্বাভাবিকভাবে সেই মণ্ডপ টপকে আমাকে যেতে হত। সেটাই করেছি আমি। মণ্ডপের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পরেশদা (পাল) আমাকে অনুরোধ করেন প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের জন্য। আমি তা করি। ওখানে একটা ছবিও তোলা হয়। আমি মাত্র দু’মিনিট পূজামণ্ডপে ছিলাম। সেটা নিয়েই লোকে বলছেন।

আবারও বলছি, পুজোর উদ্বোধন আমি কখনওই করিনি। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আমি সেটা করবও না। তারপরেও হয়তো আমার ওখানে যাওয়াটাই ঠিক হয়নি। আপনাদের সেটা মনে হলে, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখব আমি। আশা করি, আপনারা পুরো বিষয়টাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমার কোনও অভিপ্রায় ছিল না নিজের ধর্মকে ছোট করে অন্য ধর্মকে বড় করার। আমি সেটা কখনও করবও না।”

উল্লেখ্য পরেশ পালের পুজোতে যোগ দেন শাকিব! আর সেখানেই তৈরি হয় জটিলতা। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে শাকিবকে হত্যার হুমকি দেন সেই তরুণ। কলকাতায় কালী পুজোর উদ্বোধন করতে যাবার জন্য শাকিবকে কুপিয়ে টুকরো টুকরো করে হত্যার কথা বলেন এই যুবক।

এমনকি সিলেট থেকে পায়ে হেঁটে ঢাকাতে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে শাকিবকে খুনের হুমকি দেয় ওই যুবক। এখানেই শেষ নয়, এরপর ফের একবার সন্ধ্যায় লাইভে আসে ওই যুবক। সেখানে শাকিবকে একবার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে। এমনকি দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে ওই যুবক।

এরপরেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সাইবার ক্রাইমে জানানো হয় বিস্তারিত। এরপরেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। জানা যায়, ওই যুবকের নাম মহসিন তালুকদার। সিলেটের শাহপুর তালুকদার পাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় যদিও পুলিশ-প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে বলে খবর।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।