হায়দরাবাদ: সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যম জুড়ে একটাই খবর- এনকাউন্টার। আর তেলেঙ্গানা জুড়ে একটাই আওয়াজ ‘জয় সজ্জানার’। আইনের বাইরে গিয়ে দোষীদের মারা কি ঠিক হল? এই বিতর্ক চলবেই। কিন্তু ৬ ডিসেম্বর দিনটাকে হয়ত এই সজ্জানারের জন্য মনে রাখবে এই দেশ। কারণ ঠিক-ভুল বিচার না করেই সাধারণ মানুষ বলছেন, ‘সুবিচার পেয়েছেন তরুণী।’

সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে সিভি সজ্জানারের ছবি। হায়দরাবাদ এনকাউন্টারে তিনিই ‘হিরো’।

বছর কয়েক পিছিয়ে যাওয়া যাক। ২০০৮। এই সজ্জানার তখন ওয়ারাঙ্গালের এসপি। এক অ্যাসিড অ্যাটাকে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। অভিযুক্ত তিনজন- শ্রীনিবাস রাও, পি হরি কৃষ্ণ ও বি সঞ্জয়। তিনি পুলিশের একটি টিমকে পাঠিয়ে দেন ওই তিনজনকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য।

তিন অভিযুক্ত পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর তখনই আত্মরক্ষার খাতিরে গুলি চালায় পুলিশ। ভোর রাতে মৃত্যু হয় তিন অভিযুক্তের। ঘরে ঘরে তখন সজ্জানারের নাম। দেশ জুড়ে এই ধরনের ঘটনায় এনকাউন্টারের দাবি জানাচ্ছেন সকলে। সেবারও তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘হিরো।’

১১ বছর পর আবার ১৯৯৬ আইপিএস ব্যাচের সেই অফিসারের নাম। বর্তমানে তিনি সাইবারাবাদের পুলিশ কমিশনার। ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখল তেলেঙ্গানা।

শুধু জায়গাটা আলাদা। চাট্টানপল্লির ৪৪ নম্বর হাইওয়ে। ক’দিন আগেই সেখানেই উদ্ধার হয়েছে তরুণীর দগ্ধ দেহ। শুক্রবার ভোরে আবার সেই সজ্জানারই একদল পুলিশকে পাঠালেন অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে। পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে আবারও পালানোর চেষ্টা অভিযুক্তদের। তারপরই চলল পুলিশের গুলি। হাইওয়েতে মৃত্যু চার অভিযুক্তের। আরিফ, নবীন, শিবা ও চেন্নাকেসাভুলুকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল।

চাট্টানপল্লী জুড়ে তাই সকাল থেকেই ‘জয় সজ্জানার’, ‘জয় সজ্জানার’ আওয়াজ উঠছে। একইসঙ্গে অভিনন্দন জানাও হচ্ছে তেলেঙ্গানা পুলিশ ও কে চন্দ্রশেখর রাও-কে। পুলিশের উপর পুষ্পবৃষ্টি করছে সাধারণ মানুষ। মুখে তুলে দিচ্ছে মিষ্টি। কেউ কেউ বলছেন, এভাবে এনকাউন্টার করা ঠিক নয়। কিন্তু দেশবাসীর একটা বড় অংশ আজ যেন কোথাও একটা স্বস্তি পেলেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ