লখনউ: অনেক সাধ করে গ্রামে বাড়ি তৈরি করছিলেন শৈলেশ সিংহ। আত্মীয় পরিজনদের বলে গিয়েছিলেন, এবার ফিরে বাড়ির বাকিটুকু কাজ শেষ করবেন। ছুটি নিয়ে এসে থাকবেনও। কিন্তু থাকা তো দূর, বাড়ির কাজ শেষ করাই হল না মহারাষ্ট্রে বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হওয়া জেট এয়ারওয়েজের সিনিয়র টেকনিশিয়ান শৈলেশের।

উত্তরপ্রদেশের আজমগড় শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে মুবারকপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে শৈলেশের গ্রাম কড়ৌধ। নির্মীয়মাণ বাড়ির ইটের খাঁচাটুকু দাঁড়িয়ে বড় নিমগাছের ছায়ায়। এখনও প্লাস্টার হয়নি। বসত বাড়ি তালাবন্ধ।

জেট এয়ারওয়েজের কর্মী সংগঠনের দাবি, সংস্থার পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিতের পরে এই প্রথম কোনও কর্মী আত্মঘাতী হলেন। এমনকি, ভারতেই কোনও উড়ান সংস্থা বন্ধের পরে তার কোনও কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা এই প্রথম।

২০১২ সালের অক্টোবরে দিল্লিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংফিশারের এক অফিসারের স্ত্রী আত্মঘাতী হয়েছিলেন। সুইসাইড নোটে জানিয়েছিলেন, ছ’মাস ধরে স্বামী বেতন না পাওয়ায় চূড়ান্ত আর্থিক অনটনে ভুগছিলেন তাঁরা। তাই আত্মহত্যা। শৈলেশও তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। তবে আত্মঘাতী ওই জেট কর্মীর কোনও সুইসাইড নোট পুলিশ পায়নি।

শৈলেশের কাকিমা বলেন, ‘‘খুব ভাল মানুষ ছিল। গ্রামে আসতে ভালবাসত। প্রতি ছ’মাস বা এক বছরে এক বার অন্তত আসতই। বাড়িও তৈরি করছিল সখ করে। কিন্তু থাকা আর হল না।’’

শৈলেশের আত্মীয় রাজেশ সিংহ জানান, ‘‘১৮-২০ বছর বা তারও বেশি সময় জেটে কাজ করছিলেন শৈলেশ। গত প্রায় তিন বছর শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণ রোগ। সাত-আট মাস ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। তার উপর জেটের ঝাঁপ বন্ধ হওয়া নাড়িয়ে দিয়েছিল তাঁকে। কী ভাবে সংসার চলবে, কোথা থেকে আসবে চিকিৎসার খরচ, চিন্তা ঘুম কেড়ে নিয়েছিল।’’

কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, শৈলেশের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। এরমধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ওই ছেলে সম্প্রতি জেট সংস্থার কাজে যোগ দেন। ফলে একই সঙ্গে পরিবারের দু’জনের চাকরি যাওয়া শৈলেশকে হয়তো আরও দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল।

সম্ভবত ক্যানসার হয়েছিল শৈলেশের। তারপর থেকে তাঁর মন ভেঙে গিয়েছিল। পঞ্চাশের দোরগোড়ায় পৌঁছে চাকরি খোয়ানোর ধাক্কা আর নিতে পারে নি সে। পরিবারের সকলে এখন মুম্বইয়ে। দেহ সৎকারের কাজ সেরে সম্ভবত রওনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার পৌঁছনোর কথা বারাণসীতে। অস্থি বিসর্জন করার কথা সেখানেই।