স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ৫ বছরের ব্যবধানে পঞ্চায়েত ভোটের মুখে বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল কর্মী সাগর ঘোষ হত্যা মামলায় ২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত৷ রাত পোহালে শুক্রবার চূড়ান্ত রায়দান করবেন সিউড়ি আদালতের জেলা ও দায়রা বিচারক পার্থসারথী সেন৷

ইতিমধ্যে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন), ২৭ অস্ত্র আইন (সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর) এবং ৪৪৮ ধারায় (সর্বোচ্চ সাজা এক বছর) জেল হেফাজতে থাকা সুব্রত রায় ও ভগীরথ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক৷

আরও পড়ুন: সুখবর : দেশের ৯টি শহরে বাড়ি একেবারে সস্তা হচ্ছে

স্বভাবতই, দোষী সাব্যস্ত হওয়া দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সম্ভবনা প্রবল৷ এহেন অবস্থায় আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোষী সাব্যস্তদের পরিবার৷

অভিযুক্ত ভগীরথের ভাই শঙ্খজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘আমার দাদাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হল৷ আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উচ্চতর আদালতে আবেদন জানাব৷’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘দাদা যদি দোষী হত, তাহলে ও কি নিজে থেকে ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করত?’’ আদালত সূত্রের খবর, ভগীরথ আত্মসমর্পণ করার এক মাসের ব্যবধানে দলের নির্দেশে ওই বছরের ২১ মে থানায় আত্মসমর্পণ করে সুব্রত রায়৷ আজ তাঁদের দু’জনকেই দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত৷

আরও পড়ুন: BreakingNews- ১৪ মে বাংলায় পঞ্চায়েত নির্বাচন, ১৭ মে গণনা

সাগর ঘোষকে প্রাথমিকভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছিল৷ কিন্তু, মামলা চলাকালীন তাঁকে গুলি করেই হত্যা করা হয়েছে কি না, তার যথোপযুক্ত প্রমাণ পায়নি আদালত৷ এমনকী, ময়নাতদন্তের পর মৃতের শরীর থেকে মেলেনি কোনও গুলি৷

সিউড়ি জেলা আদালত আজ, বৃহস্পতিবার ৮ জন অভিযুক্তকে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে জামিনে থাকা ৬ জনকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেয়৷ বাকি ২ জনকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়৷ আগামিকাল শুক্রবার এই মামলার চূড়ান্ত রায়দান করবেন বিচারক৷

আরও পড়ুন: তৃণমূল কর্মীর নাক ছিঁড়ে কাঠগড়ায় কংগ্রেস

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাড়ুইয়ের বাঁধনব গ্রামে সাগর ঘোষকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল৷ পাঁচ বছরের ব্যবধানে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে নিষ্পত্তি হতে চলেছে এই মামলার৷ স্বভাবতই, সিউড়ি শহরে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে৷ ফাঁসি নাকি যাবজ্জীবন, বিচারক কি রায় দেন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে৷