স্টাফ রিপোর্টার, বীরভূম: এযেন সেই এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চোনা পড়ে যাওয়ার মতো কহানি৷ বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় সিংহভাগ আসনে শাসকদলের জয় সুনিশ্চিত৷ তবু পঞ্চায়েত ভোটের মুখে দলীয় কর্মী সাগর ঘোষ হত্যা মামলায় দলের দুই কর্মীকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করায় চরম বিপাকে শাসকদল৷ দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের বক্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট৷ তিনি বলেন, ‘‘এটা আদালতের বিষয়৷ ফলে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না৷’’

২০১৩ সালের ২১ জুলাই পাড়ুই থানা এলাকার বাঁধনবগ্রামে বাড়ির মধ্যে ঢুকে গুলি করে আততায়ীরা খুন করেন তৃণমূল কর্মী সাগর ঘোষকে৷ সূত্রের খবর, গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে টিকিট না পেয়ে গত পঞ্চায়েত ভোটে নিজের পরিবারের এক সদস্যকে নির্দল হিসেবে দাঁড় করানোর তোড়জোড় শুরু করেন সাগরবাবু৷ রাজনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিচ্ছে, সাগর ঘোষ খুন হওয়ার দিনা সাতেক আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দলের একটি জনসভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুব্রত মণ্ডলের অভয়বাণী ছিল- ‘‘কোনও নির্দল প্রার্থীকে ভোট দেবেন না৷ কোনও নির্দল প্রার্থীর বাড়ি থাকলে বাড়িটাকে চারিয়ে দিন৷ যদি পুলিশ বাধা দিতে আসে তাহলে পুলিশকে বোমা মারুন৷’’ এর পরই খুন হন সাগর ঘোষ৷

৫ বছরের ব্যবধানে ঠিক ভোটের মুখে এই খুনের মামলার দলেরই দুই কর্মী দোষি সাব্যস্ত হওয়ায় স্বভাবতই বিপাকে শাসকদলের নেতারা৷ একান্ত আলাপচারিতায় তাঁরা বলছেন, ‘‘হয়তো সিংহভাগ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় আমাদের জয় সুনিশ্চিত৷ তবু যেভাবে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় দলেরই দুই কর্মীকে আদালত দোষি সাব্যস্ত করল, তাতে অস্বস্তি বেড়েছে বই কমেনি৷’’

এদিকে সুযোগ বুঝে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিরোধীরা৷ বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় এবিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, ‘‘মুখে সততার প্রতীক বললেও তৃণমূল আসলে যে গুন্ডার দল তা এই রায় থেকেই স্পষ্ট৷ তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ফলেই সাগর ঘোষকে প্রাণ খোয়াতে হয়েছে৷ সঠিকভাবে তদন্ত হলে এই ঘটনায় আরও অনেকে গ্রেফতার হত৷ অথচ বাকিরা গা বাঁচিয়ে নিল৷ মাত্র দু’জনকে বলির পাঁঠা করা হল৷’’ বলছেন, ‘‘অনুব্রত মণ্ডলের সাজা হবে না কেন? ওঁর হুমকি-বাণীর পরেই তো সাগর ঘোষ খুন হয়েছিল৷’