চেন্নাই: গেরুয়া রঙ দেশের গর্বের। এমনটাই মন্তব্য করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ভারতীয় ক্রিকেট টিমের নতুন জার্সি প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছেন তিনি।

চেন্নাইয়ের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শশী থারুর বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের নিয়ম মেনে ভারতীয় ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপের জন্য গেরুয়া জার্সি বেছে নিয়েছে। আর গেরুয়া ভারতের গর্বের রঙ।’

সম্প্রতি ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে জার্সির রঙ বদলাতে হয় ভারতীয় ক্রিকেট টিমকে। নীল জার্সি ছেড়ে ভারতীয় ক্রিকেটাররা এখন পরেন গেরুয়া ও নীল রঙের জার্সি। এই প্রসঙ্গে অনেক বিরোধী নেতাই বলেছেন, এটাও নাকি আসলে গেরুয়াকরণের একটা চেষ্টা। অর্থাৎ রাজনৈতিক গেরুয়াকরণের কথা বলেছেন অনেকেই। তাই এই প্রসঙ্গে নিজের মত জানালেন শশী থারুর।ICC-র নতুন নিয়মে, দুই দেশের জার্সির রঙ যদি একই হয়, তাহলে যে দেশে খেলা হচ্ছে, তাদের জার্সির রঙ বদলানোর প্রয়োজন নেই। অন্য দলকে রঙ বদলাতে হবে। তাই ভারতকে গেরুয়া ও নীল রঙের জার্সি বেছে নিতে হয়েছে।

তাঁর মতে, গেরুয়া রঙকে নিছক একটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া উচিৎ নয়। অনুষ্ঠানে গেরুয়া কুর্তা ছিল শশী থারুরের পরনে। কুর্তার রঙ দেখিয়ে তাঁর দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘গেরুয়া ভারতের গর্বের রঙ। এটা জাতীয় পতাকার একটি রঙও বটে। তাই এটা পরতে কোনও অসুবিধা নেই।’

এর আগে কংগ্রেস, সপা সহ একাধিক বিরোধী দল এই জার্সির রঙ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। নীল থেকে কমলায় জার্সি বদলে মোদীর ‘ষড়যন্ত্র’ দেখতে শুরু করে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতির মতো ক্রিকেটেও গৈরিকীকরণের পথে হাঁটছে বিজেপি।

মহারাষ্ট্রের সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক আবু অসীম আজমির দাবি, জার্সি বদলের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে ভারত সরকার। তাঁর ব্যাখ্যা, ”গোটা দেশকে গৈরিকীকরণ করতে চান মোদী। ভারতের তেরঙার ডিজাইন করেছিলেন এক মুসলিম। তেরঙায় অন্যান্য রংও আছে। শুধুমাত্র গেরুয়া কেন? তেরঙা দিয়ে জার্সি হলে বেশ ভাল হয়”। সপা বিধায়কের সুরেই প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কংগ্রেস বিধায়ক নসীম খান বলেন,”ক্ষমতায় আসার পর থেকে গৈরিকীকরণের রাজনীতি করছেন মোদী। তেরঙাকে সম্মান জানানো উচিত। দেশের সম্প্রীতিকে তুলে ধরে তেরঙা। সব কিছুই গৈরিকীকরণ করছে সরকার”।

এনডিএ শরিক তথা কেন্দ্রীয় রামদাস আটাওয়ালের বক্তব্য, গেরুয়া রং সাহস ও জয়ের বার্তা বহন। কারও কোনও সমস্যা থাকার কথা নয়।