পরাগ মজুমদার, মুর্শিদাবাদ: জলপথে যাত্রী সুরক্ষায় তৎপর হল প্রশাসন৷ শুধু যাত্রী নয়, এখন থেকে মাঝি মাল্লাদের জন্যও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করছে জেলা প্রশাসন৷ ফলে ঘাট পারাপারে সাধারণ দুর্ঘটনা ঘটলে সহজেই তার মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। এব্যাপারে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ ব্লকের বিডিও মোহাম্মদ রহমত আলি বলেন, “ সরকাররের এই পরিকল্পনার ফলে নদী পথে দুর্ঘটনা কমে যাবে । প্রথম পর্যায়ে ঘাটগুলিকে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেবার চেষ্টা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঘাট সংস্কার করে হবে ।”

মুর্শিদাবাদের বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে ভাগীরথী৷ অন্যদিকে জেলার গা ঘেঁষে ইন্দো বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে পদ্মা নদী। ফলে জেলার একটা বড় অংশের জনপদের বাসিন্দাকে নদীপথ পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় । এত দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সকলে পারাপার করতে বাধ্য হতেন৷ মাঝে মধ্যেই নৌকা দুর্ঘটনায় প্রান হানির খবর পাওয়া যেত । অনেক সময় নৌকাতে উঠতে গিয়েই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হতেন ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জেলাতে প্রায় ৩৫-৪০ টি ঘাট রয়েছে । বর্ষার শুরুতেই ওই সব ঘাট এক দফা পরিদর্শন করেছিলেন পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা। ওই সময় যাত্রী ও পরিষেবার প্রতি ঘাট মালিকদের বিশেষ নজর দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় । এবার সরকার যাত্রী নিরাপত্তা দিতে ঘাটগুলিকে ঢেলে সাজালেন । প্রতিটি ঘাটে দিনের আলো নিভে যেতেই জ্বলে উঠবে সোলার লাইট । যেকোনও আগুন থেকে ঘাট গুলিকে রক্ষা করতে অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে । যাত্রীদের নৌকাতে ওঠানামা করতে মাইকের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে৷ মাইকে সর্বদা প্রচার করা হচ্ছে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী না তোলার জন্য।

রাত্রিকালে যাতে নৌকা, ভাসমান স্টিমার, লঞ্চ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে তার জন্য ব্যাবহার করা হচ্ছে সাইরেন । এদিকে নৌকার মাঝিদের দেওয়া হয়েছে লাইফ জ্যাকেট৷ এছাড়াও নৌকাতে অন্ততপক্ষে দুটি লাইফ জ্যাকেট রাখা হচ্ছে ৷ থাকছে লাইফ সেভার টিউবও । সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে জলপথের যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুরক্ষিত হওয়ায় খুশি স্থানীয় মানুষ থেকে নৌকার মাঝিরা।

মাঝি ভাদু দেবনাথ , মরজেম শেখ , অহাব শেখরা বলেন “আমরা সারাদিন জলের মধ্যে থাকি , জীবন বাজি রেখে যাত্রী পরিষেবা দিই। দেরিতে হলেও সরকার সুরক্ষার বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ায় আমরা খুশি৷’’ লালবাগ সাহানগর ফেরিঘাটের পরিচালক রমেশ মাল্লা চৌধুরী , জুম্মান শেখ রা প্রায় ৩০ বছর ফেরিঘাটের সঙ্গে যুক্ত৷ তাঁদের দাবি , “সরকার এই ব্যাবস্থা গ্রহনের ফলে নদী পথে যে কোনও দুর্ঘটনা এড়ান সম্ভব হবে । তাছাড়া ঘাট থেকে নৌকা ছাড়লে মাথায় যে দুশ্চিন্তা ভর করত সেই দুশ্চিন্তার অবসান হল ।”

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।