নয়াদিল্লি: তিনিই অভিশাপ দিয়েছিলেন৷ তাই জঙ্গিদের হাতে শহিদ হয়েছেন মুম্বই সন্ত্রাসদমন শাখার প্রধান হেমন্ত কারকারে৷ এমনই দাবি ভোপাল লোকসভা আসনের বিজেপি প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞার৷ তাঁর এই দাবি নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷

একজন শহিদ দেশের গর্ব৷ তাঁকে নিয়ে এই ধরণের নিম্ন মানের মন্তব্য কি করে কোনও প্রার্থী করতে পারে? সেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির৷ তবে তাতে বিশেষ কিছু হেলদোল নেই প্রজ্ঞার৷ হেমন্ত কারকারেকে তিনি নাকি বলেছিলেন তাঁর সর্বনাশ হবে৷ সেই অভিশাপেই মৃত্যু হয় হেমন্তের৷

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন মহারাষ্ট্র সন্ত্রাস দমন শাখার (এটিএস) প্রধান হেমন্ত কারকারে, মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণন, মুম্বইয়ের অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার অশোক কামতে এবং সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকর৷

সেই ঘটনার উল্লেখ করে এদিন সাধ্বী প্রজ্ঞা বলেন ওই হামলার কিছুদিন আগেই হেমন্ত কারকারেকে তিনি অভিশাপ দেন৷ আর সেই অভিশাপই ফলে গিয়েছিল হেমন্ত কারকারের জীবনে৷ জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছিল তাঁর৷

২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর৷ আরব সাগর দিয়ে বাণিজ্যনগরীতে ঢুকে পড়েছিল দশ সশস্ত্র লস্কর জঙ্গি৷ গোটা শহরকে ঘিরে ফেলে শুরু হয় তাদের তাণ্ডব৷ কালাশনিকভ হাতে মুম্বই শহরে দাপিয়ে বেড়ায় আজমল কাসব সহ দশ লস্কর জঙ্গি৷ এলোপাথাড়ি গুলি আর বিস্ফোরণে ১৮ জন নিরাপত্তাকর্মী সহ মৃত্যু হয় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের৷

অন্যদিকে, ২০০৮ সালে মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে বিস্ফোরণে ৭জন প্রাণ হারায়, আহত হয় ১০০-এরও বেশি৷ আর এই ঘটনার ষড়যন্ত্রেই অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে সাধ্বী প্রজ্ঞার৷ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও, তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ থেকে এখনও অব্যাহতি মেলেনি৷

২০১৭-র ডিসেম্বরে তাঁকে মহারাষ্ট্র সংগঠিত অপরাধ আইন (মকোকা) থেকে রেহাই দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ আদালত। তবে সন্ত্রাস দমন এবং ইউএপিএ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

হেমন্ত কারকারে মালেগাঁও বিস্ফোরণের বিশেষ তদন্তকারী অফিসার ছিলেন৷ এই ইস্যুকে কারকারেকে সতর্ক করেছিলেন প্রজ্ঞা৷ তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ যোগাড় করার ব্যাপারে হুমকি দিয়েছিলেন সাধ্বী৷ তবে তাতেও দমেননি এই পুলিশ অফিসার৷ তখনই নাকি হেমন্ত কারকারেকে মৃত্যুর অভিশাপ দেন সাধ্বী প্রজ্ঞা৷