স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ঋণ গ্রহণ করুন পাঁচ লক্ষ টাকা। আর শোধ করুন সাড়ে তিন লক্ষ। বাকি দেড় লক্ষ টাকা দিতে হবে না। সৌজন্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মহিলারা এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী। বুধবার বারাকপুরে সবলা মেলার উদ্বোধনে এসে এই কথা বলেছেন রাজ্যের ক্রেতা ও সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে।

দেশের তথা রাজ্যের অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে বেকারত্বের সমস্যা। কর্মসংস্থান সব সরকারের কাছেই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যার ব্যতিক্রম নয় পশ্চিমবঙ্গ। এই কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্যের ক্রেতা ও সুরক্ষা দফতর। মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মতে, “রাজ্যের ক্রেতা ও সুরক্ষা দফতর বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মুক্তধারা নামের একটি প্রকল্প চালু করতে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের বেকারদের ব্যবসা করার সুযোগ করে দেবে রাজ্য সরকার।”

এই প্রকল্পে মেয়েদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। মহিলারা ব্যবসা করতে চাইলে তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। তিনি বলেছেন, “স্বনিযুক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মহিলারা পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারে। এই টাকার দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ গ্রহীতাকে শোধ করতে হবে না।” বাকি সাড়ে তিন লক্ষ টাকা শতকরা দুই শতাংশ হারে শোধ করলেই চলবে। বাকিটা রাজ্য সরকার ভরতুকি দেবে বলে জানিয়েছেন মমতার মন্ত্রী।

উল্লেখযোগ্য বিশয় হচ্ছে এই ‘মুক্তধারা’ প্রকল্পের পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের। যার কথা বিভিন্ন সময়ে শোনা গিয়েছে মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মুখে। ২০১৬ সালের জুন মাসে শিঘ্রই মুক্তধারা প্রকল্প রাজযে চালু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কেবলমাত্র গ্রামের মহিলাদের জন্যেই এই প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন সাধনবাবু।

রাজ্য সরকার ক্রেতা ও সুরক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে কমপক্ষে দুই কোটি মানুষকে স্বনিযুক্তি প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল। যদিও তা এখনও পূরন হয়নি বলে স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং মন্ত্রী মহাশয়। তাঁর মতে, “আমার দফতরের লক্ষ রাজ্যের অন্ততঃ দুই কোটির বেশী নাগরিককে স্বনিযুক্তি প্রকল্পের আওতায় আনা এবং তাদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা। সেই লক্ষে আমি এখনো পৌঁছতে পারিনি। আমার বর্তমান অবস্থান মাত্র ৯০ লক্ষ নাগরিক। ফলে আরো অনেক কাজ করতে হবে আমাকে।”

বুধবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে বারাকপুর স্টেশন রোডে রাজ্যের ক্রেতা ও সুরক্ষামন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, স্থানীয় সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী, বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাস, বারাকপুরের মহকুমা শাসক আবুল কালাম আজাদ ইসলাম সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই সবলা মেলার উদ্বোধন করেন।

এই মেলার অধিকাংশ স্টলই দিয়েছে বাংলার বিভিন্ন গ্রাম বাংলায় স্বনিযুক্তি প্রকল্পের কর্মরত মহিলারা। বারাকপূরের দ্বিতীয় বর্ষের এই সবলা মেলার বিশেষ আকর্ষণ পাখি মেলা ও খাদ্যমেলা। মেলা চলবে সাতদিন ধরে। নিত্যদিনই মেলার মঞ্চে থাকবে নানান মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান।

14 COMMENTS

  1. হেড ইং বলছে দু লক্ষ টাকা শোধ করতে হবে না কিন্তু ভিতরে লেখা দের লক্ষ – কোনটা ঠিক ?
    খবরেই ঘাপলা !!! না ?

Comments are closed.