কলকাতা: শোভন চট্টোপাধ্যায় নাকি ফিরহাদ হাকিম, কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসেবে কে তাঁর কাছে এগিয়ে? কলকাতা 24×7-এর ফেসবুক লাইভে এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে।

আমফান পরবর্তী পরিস্থিতিতে শহরের যে দুর্ভোগ, তার পুরো দায় কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমের উপরে চাপিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা মানিকতলার বিধায়ক সাধন পাণ্ডে। ফিরহাদও তাঁকে ছেড়ে কথা বলেননি। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ফিরহাদের সমালোচনা করার জন্য খোদ দলনেত্রী তাঁকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

শোভন-ফিরহাদের তুলনা সরাসরি না করলেও, এদিন যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তৃণমূলের দু’বারের হ্যাটট্রিক করা বিধায়ক সাধন পাণ্ডে। বললেন, “আমি নম্বর দেওয়ার কেউ নই। মানুষই ফাইনাল নম্বর দেয়।”

এরপরই তিনি বলেন, “চন্দ্রবাবু নাইডু এত উন্নয়ন করেও হেরে গেলেন। আসলে উন্নয়ন আর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, এই দুটোকে মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষ যদি অসন্তুষ্ট হয় তাহলে যে যার মতো করে বুঝবে।”

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ফিরহাদকে ঠুকেই এই মন্তব্য করেছেন সাধনবাবু। কারন, আমফানের পর কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে শহরবাসী রীতিমত ক্ষুব্ধ ছিল। পানীয় জল, বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরানোর দাবিতে বহু জায়গায় টানা কয়েকদিন বিক্ষোভ হয়েছিল।

ওই পরিস্থিতির জন্য ফিরহাদকে দুষে সাধন পাণ্ডে বলেছিলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়নি। তিনি বলেছিলেন, বিধায়কদের ডেকে আলোচনায় বসা উচিত ছিল ফিরহাদ হাকিমের। শুধু নিজের কথা নয়, বেহালা পূর্বের বিধায়ক তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও ওই বৈঠকে ডাকা উচিত ছিল। সাধনবাবু বলেছিলেন, শোভন যে হেতু এখনও একজন বিধায়ক, সে হেতু শোভনের সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা উচিত ছিল ফিরহাদের।

এ প্রসঙ্গে এদিন ফেসবুক লাইভে সাধন পাণ্ডে বলেন, “আলোচনার জন্য একটা ফোরাম দরকার হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিধায়ক এবং বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।”

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ফিরহাদের সমালোচনা করে দলের রোষে পড়লেও সাধন পাণ্ডে তাঁর আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ