নয়াদিল্লি: ওয়াংখেড়ে হোক কিংবা মেলবোর্ন। বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক, তিনি গ্লাভস পরতে পরতে ড্রেসিংরুমের করিডর বা সিঁড়ি দিয়ে বাইশ গজের উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরুর করলেই শব্দব্রহ্মে ফেটে পড়ত গ্যালারি। সচিন…সচিন…এই চিৎকারের সঙ্গে একসময় একাত্ম হয়ে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের নাম ধরে এমন প্রথম ডেকেছিলেন কে। অনুরাগীদের সেকথা জানলেন সচিন নিজেই।

ইন্ডিয়া টু’ডের একটি অনুষ্ঠানে এসে তেন্ডুলকর জানালেন তাঁর ফ্যানেদের অনেক আগে সচিন…সচিন…নাম ধরে ডেকেছিলেন তাঁর মা রজনী তেন্ডুলকর। ‘ইন্ডিয়া ট্যু’ডে ইন্সপিরেশন’ অনুষ্ঠানে সচিন বলেন, ‘জানেন আমাকে প্রথম সচিন…সচিন…বলে ডেকেছিল? আমার বয়স তখন পাঁচ কিংবা তার একটু বেশি। আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির সামনে খেলতাম, সন্ধে সাড়ে ৭টা’র সময় আমার মা আমায় ঘরে ডাকতেন কিন্তু আমি খেলা ছেড়ে আসতে চাইতাম না। তখনই তিনি ব্যালকনীতে গিয়ে আমাকে বলতেন সচিন…সচিন…ঘরে এসো।’

শুধু তাই নয়। খেলার দিনগুলোতে তিনি যে নানা কুসংস্কারের দ্বারস্থ হতেন, তাও জানাতে ভোলেননি তেন্ডুলকর। সচিন জানিয়েছেন, ‘খেলার দিনগুলিতে আমি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলাম এবং ব্যাটিংয়ের সময় রান গুনতাম না। আমার মনে হত যে মুহূর্তে রান গোনা শুরু করব রান আর আমার কাছে আসবে না।’ পাশাপাশি গ্যালারির ‘সচিন…সচিন…’ ধ্বনি নিয়ে বলতে গিয়ে একশোটি শতরানের মালিক জানান, ‘আমি ভীষণ উপভোগ করতাম বিষয়টা। অবিশ্বাস্য একটা অ্যাটমোস্ফিয়ার। এটা আমার কাছে আশীর্বাদের মত। আমি যতই এজন্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ দিই, তা যথেষ্ট নয়।’

পাশাপাশি মা রজনী তেন্ডুলকরকে নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগঘন সচিন ওয়াংখেড়েতে তাঁর শেষ টেস্ট ম্যাচের কথা উল্লেখ করেন। ছেলের কেরিয়ারের শেষ ম্যাচের অভিজ্ঞতা ওয়াংখেড়েতে বসেই সঞ্চয় করেছিলেন রজনী তেন্ডুলকর। ওই প্রথম এবং নিশ্চিতভাবে শেষবারের জন্য ছেলের খেলা মাঠে বসে দেখেছিলেন সচিনের মা। এই প্রসঙ্গে তেন্ডুলকর বলেন, আমি মা’কে বলেছিলাম অন্তত একবারের জন্য তোমায় স্টেডিয়ামে আসতেই হবে। তোমায় দেখতে হবে কেন আমি বছরের পর বছর বাড়িছাড়া হয়ে থাকতাম। তুমি আমাকে এতবছর টেলিভিশনে দেখেছো কিন্তু অন্তত একবারের জন্য তোমায় আমার খেলা মাঠে বসে দেখতেই হবে। আমি যাতে সবাইকে বলতে পারি আমার মা আমার খেলা মাঠে বসে দেখেছে।’