নয়াদিল্লি: নারী দিবসের তুলনায় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের জৌলুষ ফিকে বেশ অনেকটাই। যেটুকু রয়েছে, তা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সকলকে অবাক করে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসে অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন মাস্টার-ব্লাস্টার সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। যা মুহূর্তের মধ্যে অনেকটাই পালটে দিল আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের ফ্যাকাসে রং।

‘মর্দ কা দর্দ নেহি হোতা’। ছেলেবেলা থেকেই এই কয়েকটি শব্দ যেন আষ্ঠেপৃষ্ঠে গেঁথে গিয়েছে আমাদের মস্তিষ্কে। জীবনের কঠিন সময় ভেঙে পড়ার মুহূর্তে যা তাকত জোগায় পুরুষকে। ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক রানের মালিক সচিন তেন্ডুলকরও কিন্তু তার ব্যতিক্রম নয়। ‘চোখের জল নাকি পুরুষ মানুষকে দুর্বল করে তোলে’। প্রাথমিকভাবে এমন বিশ্বাসে বড় হয়েছিলেন বান্দ্রার বাদশাও। কিন্তু অনেক পরিণত বয়সে এসে তিনি উপলব্ধি করেন, তিনি সম্পূর্ণ ভুল ছিলেন।

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসে এক খোলা চিঠিতে মাস্টার-ব্লাস্টার লিখেছেন, ‘আজকের এবং আগামীর পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলছি, তোমরা শীঘ্রই বাবা হবে বা কারোও স্বামী হবে, কারও ভাই কিংবা বন্ধু হবে। কারও মেন্টর, কারও আবার শিক্ষক। সুতরাং তোমরা আগামীর উদাহরণ। তোমাদের সবসময় সাহসী ও শক্তিশালী থাকতে হবে।’ তবে চলার পথে যে বিভিন্ন সময় ভয়, সন্দেহ পথের কাঁটা হয়ে ওঠে। এমনকি সেই কারণে ছেলেরা পড়ে যায়, তাঁর কাঁদতেও ইচ্ছে করতে পারে। কিন্তু সেই মুহূর্তে চোখের জল ধরে রেখে সকল পুরুষ কঠোর হওয়ার চেষ্টা করে।

কারণ, পুরুষেরা নাকি কাঁদতে চায় না। কান্না নাকি পুরুষ মানুষকে দুর্বল করে তোলে। সচিন চিঠিতে জানিয়েছেন এমন বিশ্বাসে ভর করে তিনিও বড় হয়েছেন। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ভ্রান্ত। আর সে কারণেই অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই চিঠি, এমনটাই লেখেন ছোটে নবাব। সচিনের কথায়, আমার পরিশ্রম আমার যন্ত্রণা আজ আমাকে এখানে পৌঁছে দিয়েছে, আমাকে একজন ভালো মানুষ হতে সাহায্য করেছে। এপ্রসঙ্গে ১৬ নভেম্বর, ২০১৩ বাইশ গজে তাঁর অন্তিম দিনের কথা খোলা চিঠিতে তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি শতরানের মালিক।

সচিন লেখেন, ‘মাঠে ওইদিনের কথা আমার এখনও মনে পড়ে। বহুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও শেষবার প্যাভিলিয়নে ফেরার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারিনি। প্রতিটা পদক্ষেপের সঙ্গে যেন মনে হচ্ছিল আমি জলে ডুবে যাচ্ছি। সবশেষের যন্ত্রণা নিয়ে গলা যেন ধরে আসছিল। মাথায় অনেককিছু ঘোরাফেরা করছিল কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে লড়তে পারিনি। এরপর আমি জনসমুদ্রের সামনে গিয়ে হাজির হই। অনেকটা শান্তি অনুভব করি।’ এরপর তিনি যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ, চিঠিতে লেখেন মাস্টার-ব্লাস্টার। একইসঙ্গে সচিনের কথায়, চোখের জল দেখানোয় লজ্জার কিছু নেই। যা তোমায় আরও শক্তিশালী করে তোলে তাকে কেন লুকিয়ে রাখবে?

সচিনের কথায়, ‘চোখের জল তোমার সাহস, তোমার যন্ত্রণা, তোমার দুর্বলতার পরিচয়। তবে রাত শেষ হয়ে যেমন নিশ্চিত সকাল আসে ঠিক তেমনই পুরুষদের চোখে জল তাদের আরও কঠোর বানায়। সুতরাং, গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করো। তুমি যেই হও, যেমন পরিস্থিতিতেই থাকো, নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠো।’