নয়াদিল্লি: তাঁর দাবির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে। তিনি যেমনটা দাবি করেছেন তার সঙ্গে বাস্তবের বিশেষ মিল খুঁজে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। স্বাভাবিকভাবেই সচিন তেন্ডুলকরকে একটি মন্তব্য করে বিতর্ক বাঁধিয়ে বসলেন প্রোটিয়া স্পিডস্টার ডেল স্টেইন। গোটা ঘটনায় তাঁর অভিযোগের তির যদিও আম্পায়ার ইয়ান গুডের দিকে।

স্কাই স্পোর্টসের একটি ক্রিকেট পোডকাস্টে সম্প্রতি ইংরেজ পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে স্টেইনের আলোচনায় ২০১০ গোয়ালিয়র ওয়ান-ডে’তে সচিনের দ্বিশতরান হাঁকানোর প্রসঙ্গ ওঠে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ান-ডে ক্রিকেটে দ্বিশতরান করেন মাস্টার-ব্লাস্টার। বল হাতে সেদিন প্রোটিয়া পেস বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন স্টেইন। সচিনের দ্বিশতরান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে পোডকাস্টে স্টেইন বলেন ওই ম্যাচে ১৯০-র আশেপাশে তিনি তেন্ডুলকরকে আউট করেছিলেন। কিন্তু গ্যালারির চাপে আম্পায়ার ইয়ান গুড আঙুল তোলেননি।

গোয়ালিয়রে ওই ম্যাচে ২৫টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছয় দিয়ে সাজানো ছিল সচিনের ১৪৭ বলে অপরাজিত ২০০ রানের ইনিংস। স্টেইন জানিয়েছেন, ‘তেন্ডুলকর গোয়ালিয়রে ওয়ান ডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম দ্বিশতরান করে আমাদের বিরুদ্ধেই। আমার স্পষ্ট মনে আছে ১৯০-র আশেপাশে আমি তেন্ডুলকরকে একবার এলবিডব্লু করেছিলাম। কিন্তু আম্পায়ার ইয়ান গুড ভয়ে আউট দেননি।’

আউট না দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রোটিয়া পেসার জানান, ‘আমি আম্পায়ারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘এটা কেন আউট নয়। এটা তো নিশ্চিত ছিল। আম্পায়ার পালটা জানিয়েছিলেন, ‘বন্ধু চারপাশটা একবার দেখো। ওকে আউট দিলে আমি আর হোটেলে ফিরতে পারব না।’ উল্লেখ্য সচিনের দ্বিশতরানে ভর করে ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৩ উইকেটে ৪০১ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫৩ রানে ম্যাচ হেরে যায় প্রোটিয়ারা।

কিন্তু ইএসপিএন ক্রিকইনফোর বল বাই বল পরিসংখ্যান বলছে ওই ম্যাচে ১৯০-র ঘরের আশেপাশে স্টেইনের ডেলিভারিতে সচিনের বিরুদ্ধে এলবিডব্লুর তেমন জোরালো কোনও আবেদনই হয়নি। দ্বিশতরানে পৌঁছনোর আগে ৪৭তম ওভারে হাতে গোনা তিনটি বল খেলেছিলেন সচিন। অর্ধশতরানের পর থেকে ১৯৬ অবধি স্টেইনের কোনও বল ফেস করেননি মাস্টার-ব্লাস্টার। স্বাভাবিকভাবেই প্রোটিয়া পেসারের দাবি নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট বিতর্ক।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প