মুম্বই: তিনি হলেন বাইশ গজের বাদশা৷ এর জন্য তাঁকে বলা হয় ‘ক্রিকেটঈশ্বর’৷ সব রেকর্ড ছিল সচিন রমেশ তেন্ডুলকরের ঝুলিতে, শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ছাড়া৷ শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নও সত্যি হল মাস্টার ব্লাস্টারের৷ ২০১১ বিশ্বকাপ জেতার পর সচিনের ক্রিকেট জীবনের ষোলকলা পূর্ণ হয়৷ কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের অনেক আগেই ক্রিকেট ছাড়তে চেয়েছিলেন সচিন৷ লিটল মাস্টারের অবসরের সাত বছর বাদে ফাঁস হল এই তথ্য৷

২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মহেন্দ্র ধোনির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয়ের পর ওয়ান ডে ক্রিকেটকে গুডবাই জানিয়েছিলেন৷ কিন্ত এর বছর চারেক আগে ক্রিকেট ছেড়ে দিতেন চেয়েছিলেন তেন্ডুলকর। এমনটাই জানান বিশ্বকাপ জয়ী টিম ইন্ডিয়াক কোচ গ্যারি কার্স্টেন। দক্ষিণ আফ্রিকান প্রাক্তন এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ভারতের জাতীয় দলে কোচ হয়ে আসার আগে নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না লিটল মাস্টার। ২০০৭ সালে সচিন ৩ অথবা ৪ নম্বরে ব্যাটিং করতেন। পরে কার্স্টেন কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের ওপেনিং স্লট ফিরে পান।

‘দ্য ক্রিকেট কালেক্টিভ’- শোয়ে গ্যারি কার্স্টেন জানান, ‘সচিনের সঙ্গে কোচিংয়ের জার্নি ভালো উপভোগ করেছিলাম। যখন আমি ভারতে প্রথমবার কোচিং করাতে আসি, সেই সময়ে আমার মনে আছে সচিন ক্রিকেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিল।’

২০০৭ সালে ক্যারিবিয়ানে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে গিয়েছিল ভারত। রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র সহবাগ, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি-সহ শক্তিশালী ব্যাটিং নিয়েও নক-আউট পর্বে যেতে পারেনি ভারত। কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের কোচিয়ে ভারতীয় দলের মধ্যে একাধিক সমস্যায় তৈরি হয়েছিল৷ যার প্রভাব পড়েছিল বিশ্বকাপে৷ সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে ব্যর্থতায় দায় কাঁধে নিয়ে ক্রিকেট থেকে অবসর নিতেও চেয়েছিলেন সচিন।

কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে চ্যাপেল জামানার পর টিম ইন্ডিয়ার কোচের দায়িত্ব নিয়ে দলকে বদলে দিয়েছিলেন কার্স্টেন৷ তিনি জানান, ‘সচিনের মনে করত ও ব্যাটিং পজিশন ঠিক ছিল না। খেলাটা আর উপভোগ করছিল না। কিন্তু আমি ওকে কথা দিয়েছিলাম ড্রেসিংরুমে ওকে মনের মতো পরিবশে দেব৷ পরে তিন বছরে ১৯টি আন্তর্জাতিক শতরান হাঁকিয়েছিল সচিন। নিজের পছন্দের ব্যাটিং পজিশনে ব্যাটিং করে বিশ্বকাপও জেতে।’

২০০৮ এর মার্চে কার্স্টেন কোচ হয়ে আসেন ভারতের। এরপর থেকেই ব্যাটিংয়ে পুরোনো মেজাজ ফিরে পান মাস্টার ব্লাস্টার। ২০০৮ থেকে ২০১১ র মধ্যে ৭টি সেঞ্চুরি-সহ ২১৪৯ রান করেন সচিন। ২০১০ সালে বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরি করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন মু্ম্বইকর। পরের বছর ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের পর ওয়ান ডে ক্রিকেট থেকে অবসর নেন সচিন৷ অবসরের পর ওয়ান ডে ক্রিকেট ৪৯টি সেঞ্চুরি এবং ৯৬টি হাফসেঞ্চুরি-সহ ১৮,৪২৬ রানের মালিক হন লিটল মাস্টার৷

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ