মুম্বই: করোনা আবহে নিজেদের জীবন তুচ্ছ করে কাজ করে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মানার্থে হাততালি দেওয়ার পর সাফাইকর্মীদের জন্য প্রদীপ জ্বালালেন ‘ক্রিকেটঈশ্বর’৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রদীপ জ্বালালেন টিম ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলিও৷

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার দেশের সেরা ৪০ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ বৈঠকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচিন, সৌভর, বিরাট, সিন্ধুদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদী৷ একদিন পরেই প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে এদিন রাত ৯টায় বাড়ির সমস্ত লাইট নিভিয়ে প্রদীপ জ্বালালেন দেশের সেরাা ক্রীড়াবিদরা৷ সচিন, বিরাটের সঙ্গে মোদীর আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রদীপ জ্বালান অলিম্পিকেপদক জয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধু এবং সাইনা নেহওয়ালও৷ পরিবারের সঙ্গে প্রদীপ জ্বালালেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়নাও৷

রবিবার বিকেল পাঁচটায় সময় প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর কথা টুইটারে জানিয়েছিলেন সচিন৷ টুইটারে সচিন লেখেন, ‘চার ঘণ্টা পর অর্থাৎ রাত ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য আলো নিভিয়ে আমি প্রদীপ জ্বালাতে চলেছি৷ লক্ষ লক্ষ সাফাইকর্মীদের স্যালুট জানাতে আমি এটা করতে চলেছি৷ যারা আমাদের নিরাপদ রাখতে তাঁদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে আমাদের পরিবেশকে পরিষ্কার রাখছে। ভারত, আজ রাতে আপনার কারণে এটা বেছে নিয়েছে৷ আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই৷’

করোনা নামক এই মারণ ভাইরাস থাবা বসিয়েছে সারা বিশ্বে৷ অনেক আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ একে অতিমহামারী অ্যাখ্যা দিয়েছে৷ ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে৷ ভারতেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে৷ মারা গিয়েছেন ৭০ জনের বেশি৷ করোনার বিরুদ্ধে দেশে অনেক আগেই জারি হয়েছে ২১ দিনের লকডাউন৷ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু তারপর পরিস্থিত কী হতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক হওয়ার কথা জানিয়েছেন সচিন৷

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে লিটল মাস্টার জানিয়েছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও আমার কথা মেনে নিয়ে বলেন ১৪ এপ্রিলের পরে আমাদের প্রহরীকে হতাশ করে দেওয়া উচিত নয়৷ সেই সময়টা আমরা কীভাবে মোকাবিলা করব তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷’ ভিডিও কনফারেন্সে সচিন, সৌরভ ও বিরাট কোহালি ছাড়াও ছিলেন রোহিত শর্মা, বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, যুবরাজ সিংহ, চেতেশ্বর পূজারা ও লোকেশ রাহুল৷ ক্রিকেটাররা ছাড়াও অন্য খেলাধূলো থেকে বৈঠকে ছিলেন পুলেল্লা গোপীচন্দ, বিশ্বনাথন আনন্দ, পিটি ঊষা, হিমা দাস, বজরং পুনিয়া, মানু ভকর, অজয় ঠাকুর ও শরদ কুমার৷

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত ক্রীড়াবিদদের দেশবাসীর উদেশ্যে নিয়ম মেনে চলার আবেদন রাখতে বলেন। খেলোধূলোয় যেমন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দক্ষতা, শৃঙ্খলা, ইতিবাচক মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজন হয়, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়েও আমাদের এই গুণগুলো দরকার বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এই সময় ক্রীড়াবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে বলেও জানান মোদী।