মুম্বই: গত তিন দশক ধরে বলবীর চাঁদের জীবনের বেশিরভাগ অংশ তৈরি হয়েছিল এই সত্যকে ঘিরে৷ তিনি ছিলেন সচিন তেন্ডুলকরের একজন ডোপেলগানগার৷ কিন্তু অনেকের মতোই কোভিড-১৯ মহামারীতে সেও আজ আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন৷

সচিন যখন বাইশ গজে ব্যাট হাতে কামাল দেখাচ্ছেন, তখন প্রায়শই টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যেত সচিনের এই ‘ডাবল’ বলবীরকে৷ লিটল মাস্টারের ‘হামসকল’ হওয়ার সুবাদে একাধিক বিজ্ঞাপনে ভারতীয় টেলিভিশনে নিয়মিত থাকাকালীন বলভীর চাঁদ হয়েছিলেন মুম্বইয়ের একটি ফাস্ট ফুড চেইনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর৷ কিন্তু লকডাউনে চাকরি হারিয়ে আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলবীর৷

কাজ হারিয়ে চলতি মাসের শুরুতে পঞ্জাবের নিজের গ্রামে ফিরে এসেছিলেন ৫০ বছরের বলবীর৷, কিন্তু গ্রামে পৌঁছনোর পর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন৷ শুধু বলবীরই নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও মারণ এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন৷ চলতি সপ্তাহেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি৷

বুধবার হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলবীরের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে৷ তিনি জানিয়েছেন, “ওদের (গলি বড়া পাও, বলবীর যে দোকানে কাজ করেন তাঁর মালিক) লকডাউনে ব্যবসা ক্ষতি হওয়ার পর অনেক কর্মীকেই ছাড়িয়ে দিয়েছে। আমাকেও চলে যেতে বলা হয়েছিল৷ তবে পরিস্থিতি উন্নতি হলে আমাকে ফের ডেকে নেবে বলে জানিয়েছেন৷’

সচিনের সঙ্গে মুখ ও চেহারার মিল থাকার কারণে এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন বলবীর৷ ১৯৯৯ সালে ভারতের মাটিতে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন সুনীল গাভাস্কর কমেন্টারি বক্সে বলবীরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ তিনি জানান, ‘পরে তারা আমাকে তাজ হোটেলে নিয়ে গিয়েছিলেন সচিন জি’র সঙ্গে দেখা করাতে। আমি ছ’টি ফটোতে সচিনের অটোগ্রাফ চেয়েছিলাম। আমি যখন ওকে বললাম, তখন ছবিগুলিতে সই করতে ব্যস্ত ছিলেন সচিন৷ আমি বলেছিলাম ‘এগুলি আপনার নয়, আমাপ ছবি’। তিনি চমকে উঠছিলেন, আমার দিকে তাকিয়ে হেঁসেছিলেন৷

তার পর থেকে এমআরএফ, তোশিবা, রেনল্ডস এবং টিভিএস-এর মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে বলবীরও সচিনের ‘ডাবল’ হয়েছিলেন৷ যার ক্রিকেটার সমর্থন করেছিলেন। এমনকি অসম্ভব সাদৃশ্যের কারণে বলবীর বলিউড সিনেমাতেও অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। মুম্বইয়ে দোকানের উদ্বোধন হোক বা রেস্টুরেন্ট লঞ্চে হত বলবীরের হাতেই৷ তাঁকে ঘিরে সচিন ভক্তদের উন্মাদনাও ছিল চোখে পড়ার মত।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ